সিলেট ব্যুরো:- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় আসামি, যুবলীগ ক্যাডার, কথিত আধুনিক টিভি ইউটিউব চ্যানেলের মামুন আহমদ উরফে মামুন চৌধুরী উরফে চেচরা মামুন (৩০)কে আটক করেছে শাহপরান থানা পুলিশ। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যার দিকে থাকে আটক করা হয়।
আটক মামুন সিলেট কানাইঘাট থানার জিঙ্গাবাড়ি দলইমাটি এলাকার মৃত ফরমুজ আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি শাহপরান থানাধীন নীপবন আবাসিক এলাকার বাসানং-১০, রোড নং-২ এ বসবাস করছেন।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে দেখা গেছে মামুনকে কোতয়ালী মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকেরের সাথে দাড়িয়ে কথা বলতে।
জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি সিলেট জেলা যুবদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও মোগলাবাজার থানার মির্জাপুর গ্রামের মো. নামর আলীর ছেলে সাজিব আহমদ বাদী হয়ে ৪৭৭জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানায় গত ৩ ফেব্রুয়ারী এ মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় ছেছরা মামুনকে ২৭ নং আসামী হিসেবে উল্ল্যেখ করা হয়। মামলা নং- ৬৮/২৫।

এদিকে মামুনকে আটকের পর তারই সহচর মুজিবুর রহমান ডালিম নামের কথিত সাংবাদিক ও জাতীয় পার্টির নেতা থানা থেকে মামুনকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এব্যাপারে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিন হোসেন জানান, মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় অভিযোগ আছে। তিনি বলেন, কোতয়ালী মডেল থানার আসামী সে। তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।
ওসির সাতে একান্ত আলাপ:- গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামির সাথে একান্ত গোপন আলাপচারিতায় দেখা গেছে সিলেটের কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হককে।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিলেট রেজিস্ট্রারী মাঠে সিলেট সোসাইটির একটি অনুষ্টানের সময় এ গোপন আলাপের ঘটনা ঘটে। এর কয়েকঘন্টা পর তাকে আটক করে শাহপরান থানা পুলিশ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সময় ছাত্র জনতার উপর অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামী, যুবলীগ ক্যাডার মামুন আহমদ উরফে মামুন চৌধুরী উরফে চেচরা মামুনকে দেখা যায় কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকেরের সাথে দাড়িয়ে কথা বলছেন।
জানা যায়, ঐ অনুষ্ঠানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার অথিতি হিসেবে যোগদানের কথা ছিল। এ সময় পুলিশ কমিশনারের সভাস্হলে পৌছার অপেক্ষায় ছিলেন ওসি জিয়াউলল হক। এই ফাঁকে তার সাথে গিয়ে আলাপচারিতায় মেতে উঠেন পলাতক আসামী মামুন। জানা যায়, মামুন আসামী হওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে কৌশল অবলম্ভন করছেন মামলা থেকে রেহাই পেতে। আর সেই সুযোগ তিনি নিচ্ছেন। একটি সুত্র জানায়, ইতিমধ্যে তিনি মামলার চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দিতে মোটা অংকের টাকাও অফার করেছেন তদন্তকারি কর্মকর্তার কাছে।