মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সরকারি তিনটি জলমহাল অবৈধ দখলমুক্ত করে পুনরায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ জহুরুল হোসেনের নেতৃত্বে এই দখলমুক্ত অভিযান পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি পূরণ হবে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে মাছ আহরণের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
বিন্দারাণির দিঘি:
পৃথিমপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ৭ একর আয়তনের বিন্দারাণির দিঘি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে ছিল। একাধিক মামলার কারণে দিঘিটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইজারার কার্যক্রম শুরু করে এবং ২ লাখ ৫ শত টাকায় নিলামের মাধ্যমে দিঘিটি পুনরায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ১১ বছর পর পুকুরটি সরকারের অধীনে এসেছে।
হ্যালিপ্যাড পুকুর:
কাদিপুর ইউনিয়নের ঢুলিপাড়া এলাকায় অবস্থিত ২ একর আয়তনের হ্যালিপ্যাড পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের দখলে ছিল। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুকুরটি সরকারী ব্যবস্থাপনায় নিয়ে এসে সায়রাত রেজিস্ট্রারভুক্ত করেছে। পুকুরটি পুনরুদ্ধার হওয়ার পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাছ ধরার নিলাম কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কাটুয়া বিল:
ভূকশিমইল ইউনিয়নের শশারকান্দি মৌজায় অবস্থিত ২৬ একর আয়তনের কাটুয়া বিলটিও স্থানীয় প্রভাবশালী মৎস্যজীবী মহল দ্বারা অবৈধভাবে দখল করা ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনের উদ্যোগে এই বিলটি সরকারী জলমহাল হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে এবং এখন ইজারার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনের মন্তব্য:
তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন স্যারের নির্দেশনায় আমরা সরকারি জলমহালগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করেছি। এখন থেকে সরকারের কোষাগারে প্রচুর রাজস্ব জমা হবে।”