সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষাধিক হিন্দু ভক্ত আশেকানদের আগমন ঘটেছে। আর সকল হিন্দু ভক্ত আশেকানদের জন্য রয়েছে থাকা খাওয়ার বিশাল আয়োজন। করা হয়েছে আলাদা হিন্দু ক্যাম্প।হিন্দু নারী ভক্তদের থাকার জন্য রয়েছে আলাদা থাকার জায়গা ও ভিন্ন আয়োজন।
বিশাল জায়গা জুড়ে সারি সারি চুলায় চলছে ভক্তদের জন্য রান্নার আয়োজন। একসাথে দিনরাত একহাজার চুলায় রান্না চলছে ২৪ ঘন্টা। হিন্দুদের রান্নার কাজে নিয়োজীত আছে প্রায় ২০ হাজার হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক। কেউ ভাত, কেউ ডাল কেউবা মাংস রান্না করছেন। প্রতি ঘণ্টায় রান্না হচ্ছে ২/৩ লাখ হিন্দু ভক্তের খাবার।আছে বিশাল খাবার মাঠ সেখানে সারিবদ্ধভাবে ভক্তরা মাটির বাসনে তাদের খাবার খাচ্ছেন। খাওয়া শেষে তারা নিজেরাই বাসনটি ধুয়ে রাখছেন নির্দিষ্ট জায়গায়। এত ভক্তের সমাগম হলেও নেই কোনো বিশৃঙ্খলা। হিন্দু শালার দায়িত্বপ্রাপ্ত গৌরসেন বলেন, আমি ৩০বছর বাবার কদমে আছি, বাকি জীবনটা বাবার কদমে থাকতে চাই। তিনি আরো বলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশা-পাশি মুসলিম সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের খাবার ও থাকার আলাদা-আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।নেই কোন জাতি ধর্মের ভেদাভেদ। এখানে ভাত, ডাল দিয়ে আলুর নাবড়া,, খাসিও মুরগির মাংস রান্না করা হয় ভক্তদের জন্য।
ডি.এস.এফ বাহিনীর প্রধান কে এম মারুফ হোসেন জানান, গত শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ফজর নামাজের পর ফাতেহা শরীফ পাঠ ও তরিকতের আমল পালনের মধ্য দিয়ে ওরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ফরজ আমলের পাশাপাশি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, জিকির আজগার, মোরাকাবা-মোশাহেদা, ওয়াজ নসিহত, ওয়াজ মাহফিল এবং সুন্নাত এবাদতের পাশাপাশি নফল এবাদত চলছে। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র উরসে দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক ভক্ত-মুরিদান অংশ গ্রহন করেছে।
খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের স্থলাভিষিক্ত পীরজাদা মাহফুজুল হক মুজাদ্দেদী উরস চলাকালীন চার দিনই আশেকান জাকেরানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রদান করবেন। আগামী মঙ্গলবার ফজর নামাজ পর শাহসুফি ফরিদপুরী (কু ছে আ) রওজা জিয়ারত করা হবে। এরপর বিশ্ব শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে চার দিনের এই ওরস শরীফ।