ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠি সদর উপজেলার সাচিলাপুর কিস্তাকাঠি স্কুল এন্ড কলেজে ইসলাম ধর্ম নিয়ে এক শিক্ষিকার কটুক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির অবসান। গত ৩ আগস্ট শ্রেণিকক্ষে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির ঘটনাটির সূত্র ধরে ১৯ আগস্ট শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে। পরে ২১ আগস্ট অধ্যক্ষের উদ্যোগ ও ইউএনও ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও স্থানীয়দের সাথে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এই ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন ও অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা।
প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক (কৃষি) লিটু রানী ৩ আগস্ট অষ্টম শ্রেণির একটি ক্লাসে কোরআন ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এ অভিযোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
অধ্যক্ষ মোসলেম আলী সিকদার ২০ জুলাই থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করায় ওই সময়ে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ১৮ আগস্ট রাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে স্থানীয়রা জড়ো হলে এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উত্তেজনা এড়াতে অধ্যক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে পরদিন বিদ্যালয়ে না আসতে নির্দেশ দেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন।
পরদিন সকালে ১৯ আগস্ট বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা শিক্ষিকার বিচার, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয়ে ধর্ম নিয়ে সমালোচনা বন্ধ ও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ২১ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন স্কুলে গিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তার সঙ্গে ছিলেন ঝালকাঠি সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আমিনুল ইসলাম। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের শান্ত করা হয় এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
একইদিন ঝালকাঠি সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ ও জাইকা অফিসার ইমরান হোসেন। কমিটিকে ২৫ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লিটু রানীর বিদ্যালয়ে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদকে ঘিরে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা কৌশলে ঘটনাটিকে অন্যদিকে মোড় ঘুরিয়ে অধ্যক্ষের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে।
সহকারী শিক্ষক (কৃষি) লিটু রানী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কখনো ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করিনি। আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।
অধ্যক্ষ মোসলেম আলী সিকদার বলেন, আমি পরীক্ষা ডিউটিতে থাকায় ওই দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম না। অভিযোগ শোনামাত্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি সরেজমিনে শুনেছি। সবাইকে ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করেছি। আমি নিজেও একজন মুসলিম। কোনো ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি করা উচিত নয়। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।