হেফাজত-e-ইসলাম নেতারা বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শনিবার (৫ এপ্রিল) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হেফাজত নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপির মতো তারাও দ্রুত নির্বাচন চান।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির ড. আহমদ আবদুল কাদের, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
জামায়াতের সমালোচক হেফাজত আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন করতে পারে—এমন গুঞ্জন রয়েছে। এর জবাবে মহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, “যারা হেফাজতের ১৩ দফা দাবিকে সমর্থন করবে, হেফাজত তাদেরই সমর্থন করবে।”
মহিউদ্দিন রব্বানী সমকালকে জানান, বৈঠকে ২০১৩ এবং ২০২১ সালের হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, নির্বাচন, আওয়ামী লীগের বিচার এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপি নেতারা আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের দাবি তুলবেন। এছাড়াও, আগামী নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে কাছে টানতে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী কাজ করবে।
মহিউদ্দিন রব্বানী আরও বলেন, “বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চায়, হেফাজতও তাই চায়। তবে হেফাজত নেতারা কোনো নির্বাচনে হেফাজতের ব্যানারে অংশ নেবেন না। তারা নিজেদের দল থেকে নির্বাচন করবেন। হেফাজত মনে করে, যত দ্রুত নির্বাচন হবে তত ভালো।” তিনি আরও বলেন, সরকার একেক সময় একেক কথা বলছে, যা নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
সংবিধান সংস্কার কমিশন সম্প্রতি সংবিধানের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে বহুত্ববাদ যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। তবে বিএনপি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানে যুক্ত করা “আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস” ফিরে আসাতে আগ্রহী। হেফাজতও এই মূলনীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো—যেমন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট—এর নেতারা হেফাজতের নেতৃত্বে রয়েছেন। এই দলগুলো এক সময়ে বিএনপির জোটে ছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তারা বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে আসে।
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো—যেমন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট—এর নেতারা হেফাজতের নেতৃত্বে রয়েছেন। এই দলগুলো এক সময়ে বিএনপির জোটে ছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তারা বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে আসে।