লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, “হিন্দুরা এ রাষ্ট্রের আমানত। অন্য দেশে সংখ্যালঘুদের নিয়ে কী ঘটছে, তা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে ও সম্মানে বসবাস করতে পারে।”
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা ব্যারাজ, বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং পাটেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও সম্প্রীতির বার্তা
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “একটি সভ্য রাষ্ট্রে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত দায়িত্ব। হিন্দু সম্প্রদায় এই রাষ্ট্রের গঠন ও অগ্রগতির অংশীদার। তাদের প্রতি আমাদের সম্মান ও দায়িত্ববোধ থাকা উচিত।”
বুড়িমারী স্থলবন্দর উন্নয়নের দাবি
স্থলবন্দর ঘুরে দেখার সময় তিনি বলেন, “বুড়িমারী স্থলবন্দর দেশের একটি সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং নানামুখী সিন্ডিকেটের কারণে এই বন্দরের পুরো সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “ভারত থেকে এই বন্দরের মাধ্যমে ১৮টি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ। ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন, সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে উন্মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার।”
চার লেন সড়কের দাবি
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, “বুড়িমারী থেকে রংপুর ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও দ্রুত করতে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে হবে। আগামী জুন-জুলাইয়ের বাজেটে অন্তর্বর্তী সরকার যেন এই প্রকল্পে বরাদ্দ রাখেন, আমরা সেই দাবি জানাচ্ছি।”
উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা
ব্যারিস্টার ফুয়াদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এরশাদ হোসেন সাজু, স্থানীয় নেতাকর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সম্প্রীতির বার্তা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ গভীর রাজনৈতিক সংকটে। এই সংকট নিরসনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানবিকতা ও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে একটি সহনশীল রাষ্ট্র গঠনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”