মোঃ সায়েদুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর শহীদ মীর কাসেমের কবর জিয়ারত করেন তার ছোট ছেলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জে শহীদ মীর কাসেম আলী প্রতিষ্ঠিত মসজিদের পাশে বাবার কবর জিয়ারত করেন ব্যারিস্টার আরমান । এসময় আরমান বলেন, ফ্যাসিস্ট ও মানবতাবিরোধীদের বিচার বাংলাদেশে হতেই হবে। যাতে পুরো পৃথিবী সঠিক বিচার দেখতে পারে।
আয়নাঘরের যে নির্যাতন তার চেয়ে হয়তো মৃত্যু ভালো। কোনো মানুষ অন্য মানুষকে এমন নির্যাতন করতে পারে তা ভাবাও যায় না। আমি যতবার প্রশ্ন করেছি যে, কেন আমাকে আটকে রাখা হয়েছে, কী আমার অপরাধ? প্রতিবারই বলা হয়েছে ওপরের নির্দেশে আমরা কাজ করছি।
আমাকে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার কর্তৃক গুম করা হয়েছে।
কবর জিয়ারতের পর চালা আহমাদিয়া সুলতানিয়া সামসুল উলুম হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার পর তিনি বলেন, আমার বাবার মামলায় আমি একজন নিয়োজিত আইনজীবী ছিলাম। ওই মামলার একদম শেষ পর্যায়ে যখন শুনানি চলছে। ফাঁসি কার্যকরের ঠিক দুই-তিন দিন আগে আমাকে বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আট বছর আমাকে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়। ওই আট বছর আমি জানতে পারিনি আমার বাবার কী হয়েছে। আমার পরিবার জানতে পারেনি আমি কি বেঁচে আছি না মারা গেছি। ছাত্রদের বিপ্লবের পর আমাকে মুক্ত করা হয়। এরপর আমি জানতে পারি বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দেয়া হয়েছে।
আমি আয়নাঘর থেকে বের হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আমার দুই চোখে ছানি পড়ে গিয়েছিল। আমি দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলাম। দেশে ফিরে আমি মানিকগঞ্জ আসি আমার বাবার কবর জিয়ারতের জন্য। মানিকগঞ্জ জেলা আমার বাবার অন্তরের জায়গা। আর এখানেই শুয়ে আছেন আমার বাবা। মানিকগঞ্জ নিয়ে তার অনেক পরিকল্পনা ছিল। এই মানিকগঞ্জকে একটি আধুনিক নগর হিসাবে তৈরি করার জন্য স্বপ্ন দেখতেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন মানিকগঞ্জকে স্যাটেলাইট সিটি হিসেবে তৈরি করবে এবং মানিকগঞ্জ থেকে তিনি রাজধানীতে অফিস করবেন।
পরে তিনি হরিরামপুরে তার বাবা প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক টাস্ট্র ঘুরে দেখেন এবং টাস্ট্র কার্যালয় উদ্বোধন করেন।