ঢাকা, ৫ এপ্রিল:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে দেশের প্রতিটি মানুষকে স্বাবলম্বী করা হবে— এমন মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার মাতুয়াইল তামীরুল মিল্লাত মহিলা কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন মাঠে “দারিদ্র্য বিমোচনে ও বেকারত্ব দূরীকরণে আত্মকর্মসংস্থান” সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জামায়াতের পক্ষ থেকে বেকার যুবকদের মাঝে অটোরিকশা উপহার প্রদান করা হয়।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গঠন করতে চাই যেখানে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও বৈষম্যের কোনো স্থান থাকবে না। অতীতের কোনো সরকার তা করতে পারেনি, তবে জামায়াত তা করে দেখাবে। দেশের মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখলে উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্যেও জামায়াত সমাজসেবা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। এখন অনুকূল পরিবেশে দশগুণ গতিতে সমাজসেবা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জামায়াতের চার দফা কর্মসূচির একটি মূল স্তম্ভ হলো সমাজ সংস্কার ও সমাজসেবা।”
তিনি দাবি করেন, “১৯৪১ সাল থেকে সমাজ সংস্কারে জামায়াত আন্দোলন চালিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পরও সমাজে বৈষম্য রয়ে গেছে। ২০২৪ সালে সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাতি আবার জেগে উঠেছে। কোনো দল বা ব্যক্তি যদি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে।”
নূরুল ইসলাম বুলবুল আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে সব রাজনৈতিক শক্তি এক হয়েছে, সেইভাবে সুখী-সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গঠনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দখলদারিত্বের রাজনীতি থেকে সরে এসে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যাত্রাবাড়ী পূর্ব থানা জামায়াতের আমির শাহজাহান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও ঢাকা-৫ আসনে মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কর্মপরিষদের সদস্য সৈয়দ সিরাজুল হক, কদমতলী উত্তর থানা আমির আবদুর রহমান জীবনসহ স্থানীয় থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।