ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত কয়েক মাসে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, আটকের প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের কেউ কেউ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তারা ভেনেজুয়েলায় কী উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন এবং আটকের সময় কী ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য সংগ্রহ করছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধারণা, মার্কিন নাগরিকদের আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ ও দরকষাকষির সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে মাদুরো সরকার। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে ভেনেজুয়েলার সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তীব্রতর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এসব আটক ঘটতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
মাদুরোর ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভেনেজুয়েলার মাদক পাচার নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ভেনেজুয়েলার একাধিক নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির বন্দরে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা—সিআইএর অভিযানের অভিযোগ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজ অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নাগরিকদের আটক করার কৌশলটি ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়ার কৌশলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজ ভূখণ্ডে একাধিক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে সর্বপ্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। তবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার কথা স্বীকার করেননি, তবুও তারা নিকোলা মাদুরোকে অবৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন এবং তাঁকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেলবাহী জাহাজ জব্দসহ বিভিন্ন আর্থিক ও কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করছে।
গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মাদুরোর পরিবারের সদস্যদের ওপর দুই দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এসব নিষেধাজ্ঞায় মাদুরোর তিন ভাগনে, তাঁর ভগ্নিপতি এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে মাদুরো সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

