চীনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত একটি বড় ভাবনার বিষয়। স্বল্পমেয়াদে দেশটির তেল সাপ্লাই কয়েক মাস পর্যাপ্ত থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে তারা রাশিয়ার সাহায্য নিতে পারে।
চীনের জন্য সমস্যা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে বিনিয়োগ নয়, বরং এর দীর্ঘমেয়াদী ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও ঝুঁকির মধ্যে। চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির হাজার হাজার প্রতিনিধি বৈঠক করছেন, যেখানে দেশটির অর্থনীতি, কম খরচ, দীর্ঘমেয়াদী রিয়েল এস্টেট সমস্যা এবং স্থানীয় ঋণ নিয়ে পরিকল্পনা আলোচনা হচ্ছে।
চীনের আশা ছিল তারা রপ্তানি বাড়িয়ে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে পারে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক বছরের বাণিজ্য যুদ্ধের পর এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে এই পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে চীনের শিপিং ও তেলের সরবরাহ প্রভাবিত হতে পারে।
চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও তা মূলত লেনদেনভিত্তিক। চীন ২০২১ সালে ইরানের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তি করেছে, যেখানে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তেলের সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও, বিনিয়োগের একটি অংশই পৌঁছেছে বলে মনে করা হয়। ২০২৫ সালে চীন ইরান থেকে দৈনিক ১.৩৮ মিলিয়ন ব্যারেল কাঁচা তেল আমদানি করেছে, যা দেশের মোট তেলের আমদানের প্রায় ১২ শতাংশ।
- চীন সামরিক মিত্র হিসেবে ইরানকে সাপোর্ট দেয়নি। এটি কখনোও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে না এবং কোনো সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। বেইজিং কেবল সংঘাত থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে।
চীনের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষের জন্য সুষ্ঠু সাময়িক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। চীন চেষ্টা করছে নিজেকে দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে প্রমাণ করতে, কিন্তু সামরিক দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো সুপারপাওয়ার হিসেবে প্রাধান্য দেখাচ্ছে।
চীনের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হল মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনিয়মিত নীতি। চলতি মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের আগে চীন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চায় এবং এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কৌশল ও স্বার্থ নির্ধারণের সুযোগ হিসেবে দেখছে।
বিশ্বে সংঘাত এবং অস্থিতিশীলতা চীনের জন্য বিপুল অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথ দেশগুলোতে খাদ্য ও তেলের নিরাপত্তা সমস্যার মাধ্যমে। এই পরিস্থিতি চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকে “যুদ্ধে আগ্রহী” হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগও তৈরি করছে।
তবে চীন চায় না, বিশ্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত হোক, আবার চায় না এমন বিশ্ব যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত অস্থিতিশীলভাবে আচরণ করে।

