কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি গত কয়েক দিন ধরে সস্ত্রীক বরিশালে মামার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের বাংলাবাজার এলাকার ওই বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে প্রতিবেশীরা কেউ জানতেন না, তৌহিদ আফ্রিদি এই বাড়িতে আত্মগোপনে আছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর সবাই বিষয়টি জানতে পারেন।
সিআইডি বরিশাল নগর পুলিশের সহায়তায় এই অভিযান চালায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় করা হত্যা মামলার আসামি তৌহিদ আফ্রিদি।
এই মামলার প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই মামলার অন্যতম আসামি ও তৌহিদের বাবা মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে ১৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) গ্রেপ্তার করে।
তৌহিদ আফ্রিদি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভ্লগ ও ভ্রমণকেন্দ্রিক কনটেন্ট তৈরির জন্য খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ফলোয়ারের সংখ্যা ৮ লাখ ২১ হাজার। ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার ৬৩ লাখ ১০ হাজার। তিনি সেখানে ২০৮টি ভিডিও আপলোড করেছেন।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ অভিযান শুরু করলে প্রতিবেশীরা জানতে পারেন, তৌহিদ আফ্রিদিকে ধরতে এই অভিযান। একজন প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজ সোমবার বলেন, ‘তৌহিদ আফ্রিদি এখানে লুকিয়ে ছিলেন, সেটা আমরা ধারণা করতে পারিনি। গ্রেপ্তার হওয়ার পর জানলাম। আগে জানতাম তৌহিদ আফ্রিদির দাদা বাড়ি বরিশালেই।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে গাড়িতে তোলার আগে বেশ কিছু সময় সেখানে তিনি পুলিশ ও সিআইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি দাদার বাসায় আসছি কবর জিয়ারত করতে। আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে তিনি বলছিলেন, ‘আমি ভয় পেয়েছি শুধু আমার স্ত্রীর জন্য। ও ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে আসা সিআইডির একটি দল তাঁকে বরিশাল নগরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে রাতেই ঢাকায় নিয়ে গেছে।
১৭ আগস্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দেয় জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স (জেআরএ) নামের একটি সংগঠন।