গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করার পর এক বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কের ইমিগ্রেশন আইনজীবী মঈন চৌধুরী এই ব্যাপারে জানান, এই শিক্ষার্থীর মুক্তির জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে চুরির মামলায় নিষ্পত্তির পরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চুরির মামলায় দোষ স্বীকার করার পর আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করেছিলেন, কিন্তু তারপরেও ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার ভিসা বাতিল করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়, এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, জেএফকে বিমানবন্দর থেকে সম্প্রতি বেশ কিছু বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে গ্রিন কার্ডধারী এবং পারিবারিক কোটায় ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীও ছিল। এই পরিস্থিতিতে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আসছেন, তাদের জন্য সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মঈন চৌধুরী। তিনি বলেন, “গ্রিন কার্ডধারীরা যদি বছরের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে না থাকেন, তাহলে তাদেরকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতে হয়। অনেকের ক্ষেত্রে, তারা মুচলেকা দিয়ে ঢুকতে পেরেছেন, তবে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি তারা ১০ মাস যুক্তরাষ্ট্রে না থাকেন, তবে তাদের গ্রিন কার্ড কেড়ে নেওয়া হবে।”

এ পরিস্থিতির মধ্যে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো-করটেজ। তিনি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের কারণে বাংলাদেশি অভিবাসীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে তার অফিসের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন।
এছাড়া, শাহজাহান শেখ বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু কাগজপত্রহীন নন, অনেক গ্রিন কার্ডধারীও ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন, কারণ তারা জানেন, অবৈধ অভিবাসী ধরতে অভিযান চলছে এবং তাদের কাছে সন্তোষজনক জবাব না থাকলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে।”
এভাবে, অভিবাসন সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, এবং এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশি আমেরিকান নেতারা তাদের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।