দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ১নং জয়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে আজ উদ্বোধন হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম। এ উপলক্ষে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।জয়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ১০টি গ্রামের প্রায় ৮ শতাধিক নারীর মধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৫৪০ জন নারীকে এই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, আজ মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী প্রফেসর ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা ইতোমধ্যে ৬নং ওয়ার্ডের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তারা কাজ করছেন এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথ্য দিচ্ছেন।
ফ্যামিলি কার্ড পেতে যাওয়া জয়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন,
“দেশের প্রথম দিকের মানুষ হিসেবে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছি—এই খবর শুনে খুবই আনন্দ লাগছে। এতে আমাদের পরিবারের অনেক উপকার হবে।
স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন জানান, এই সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এই কর্মসূচি এলাকার মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই কার্ড পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
জয়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুল হক বলেন, ফ্যামিলি কার্ডকে কেন্দ্র করে আমার এলাকায় ব্যাপক আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এলাকার মানুষ এই উদ্যোগে খুবই খুশি।
এ বিষয়ে ১নং জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রফেসর ডা. জাহিদ হোসেনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তার নিজ উপজেলা হওয়ায় দেশের ১৪টি উপজেলার সঙ্গে আমাদের নবাবগঞ্জ উপজেলা ও জয়পুর ইউনিয়নকে এই কর্মসূচির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কর্মীরা জানান, কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কাজ চলছে। তারা বলেন, আমরা খুব সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তথ্য সংগ্রহ করছি। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তথ্য দিচ্ছেন এবং এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করছেন।
ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু হওয়ায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির সুবিধা সহজেই পাবে।

