জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে ফেলার দায়ে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল, যার নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডিআইজি নুরুল ইসলাম, এসআই মালেক, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি এবং সাইফুল ইসলাম। আদালত একই সঙ্গে সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
রায়ের আগে সকাল ১২টা ২৫ মিনিটে গ্রেপ্তার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়। এই আটজন হলেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল। এ ছাড়া আরও আট আসামি পলাতক রয়েছেন, যার মধ্যে ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, দু’জন সাবেক পুলিশ পরিদর্শক এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া অন্তর্ভুক্ত।
এই ঘটনায় শহীদ হয়েছেন সাতজন: সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক এবং মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
গত বছরের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। সাক্ষ্য প্রমাণের মধ্যে ৩১৩ পৃষ্ঠা কাগজপত্র, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও গ্রেপ্তার আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন, এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
রায়ের দিন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকে। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

