সত্যজিৎ দাস:
বাংলাদেশের স্বাধীনতার গল্প শুধু এক বিজয়ের কাহিনী নয়,বরং এক অবিচল সংকল্প ও অপরিসীম ত্যাগের রূপরেখা। ১৯৭১ সালের সেই অন্ধকার রাতে, যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নিরীহ জনগণের ওপর হঠাৎ শুরু হওয়া নিষ্ঠুর হামলার ছায়া নেমে আসে,তখনই এক নতুন দিনের সুর বাজতে শুরু করে। সেই রাত,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী ঘোষণা ও বীরত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে—এক মুহূর্তে এক অদম্য স্বপ্নের জন্ম, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার অমর সুরে রূপ নেয়।
২৬ মার্চ,এখন যখন আমরা জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করি,তা শুধুমাত্র এক ছুটির দিন নয়। এটা আমাদের সংগ্রামের ঐতিহাসিক অঙ্গশক্তি, রক্তক্ষয়ী ত্যাগ ও আত্মত্যাগের স্মারক।
এই দিনে,শহরের প্রত্যেক কোণে জাতীয় পতাকার ঝলকানি,স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের অঙ্গীকার এবং ৩১ বার তোপধ্বনির সুর আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে কতগুলি অমর আত্মা লড়াই করেছে।
স্বাধীনতার এই মহিমান্বিত দিনের আসল অর্থ কেবল রাজনৈতিক বিজয় নয়,বরং মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও সমবেদনার প্রতিফলন। সেই সংগ্রামী আত্মারা আমাদের শেখায় যে,স্বাধীনতা মানে শুধু শাসনের অধিকার নয়,এটি মানুষের হৃদয়ে সত্য, সম্মান ও মুক্তির অমূল্য আলো জ্বালিয়ে রাখা। তাদের ত্যাগ আজকের আমাদের জীবনে এক অনন্ত প্রেরণার উৎস, যা প্রতিটি প্রজন্মকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে, নতুন স্বপ্ন দেখায় ও একটি সমবায় সমাজ গড়ার অনুপ্রেরণা যোগায়।
আজ,যখন আমরা স্বাধীনতার উদযাপনে মেতে উঠি, তখনও মনে রাখতে হবে—স্বাধীনতা কোনো একদিনের অর্জন নয়,এটি এক অনবরত সংগ্রামের ফল। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন সেই সংগ্রামী আত্মাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এবং আমরা এক নতুন দিনের সূচনা করি,যেখানে মানবতা,ন্যায় ও সমতার শাসন অটুট থাকবে।
এই দিনটিকে স্মরণ করি না শুধুমাত্র এক ইতিহাস হিসেবে,বরং এক জীবন্ত বার্তা হিসেবে—যে স্বাধীনতা,সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের আলো আজও আমাদের পথপ্রদর্শক।