চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সংলগ্ন জোবরা গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে টানা দুইদিন ধরে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ৭৮ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে, ১০০ জন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এবং ২২ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে, পাশাপাশি পিঠ, বুক ও হাতে জখম রয়েছে।
আইসিইউতে ভর্তি শিক্ষার্থীরা হলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র নাইমুর রহমান (ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন) এবং আরেকজন অজ্ঞাত শিক্ষার্থী (পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি)।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানান, “আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৮ জন শিক্ষার্থীর অধিকাংশের মাথায় আঘাত লেগেছে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের সহায়তায় হাটহাজারী থেকে ট্রাকে করে দেশীয় অস্ত্র এনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি বিএনপি নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়ার উস্কানির কথাও উল্লেখ করেছেন তারা।
চবি শিক্ষার্থী রাজন বলেন, “শনিবার রাতে ও রোববার দুপুরে ট্রাকে চাপাতি, দা, কিরিচ, রামদা আনা হয়। এসব অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা ধানি জমিতে আমাদের তাড়া করে, বাসা থেকে টেনে বের করে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। এমনকি পড়ার টেবিল থেকে টেনে এনে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে।”
অন্য শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও সেনাবাহিনী উপস্থিত থেকেও কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। সেনা সদস্যরা শনিবার রাতে মোতায়েন হলেও রোববার ভোরে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান।
জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসক মোতায়েন করা হয়েছে।

