জবি প্রতিনিধি:
বিশ্বজুড়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য হাল্ট প্রাইজ একটি অনন্য প্রতিযোগিতা। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য নতুন নতুন উদ্যোগের পরিকল্পনা করে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায় উপস্থাপন করে। প্রতিবছর নির্দিষ্ট একটি থিমের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায়িক আইডিয়া তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নেয়। হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের সহায়তায় পরিচালিত এই প্রতিযোগিতা বিশ্বব্যাপী আলোচিত, যা শিক্ষার্থীদের সামাজিক ব্যবসা ও উদ্যোক্তা দক্ষতা বিকাশের এক বিরল সুযোগ করে দেয়। ২০২৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হাল্ট প্রাইজের ফাইনাল রাউন্ডের আয়োজন এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল ও কার্যকর উদ্যোগ উপস্থাপন করেছে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাল্ট প্রাইজ ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছয়টি দল প্রতিযোগিতার শেষ ধাপে তাদের উদ্ভাবনী পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। প্রতিটি দলের মূল লক্ষ্য ছিল নির্ধারিত থিমের আলোকে একটি টেকসই ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করা, যা আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
ফাইনাল রাউন্ডে অতিথি ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার, চেয়ারম্যান, ডিপার্টমেন্ট অ্যাকাউন্টিং এন্ড অফ ইনফরমেশন সিস্টেম। চিফ মডারেটর অধ্যাপক ড. মো: মিরাজ হোসেন, এবং মডারেটর অধ্যাপক ড. তাসলিমা আক্তার। বিচারক প্যানেলে ছিলেন ড. এমডি রফিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ, তৌহিদ হোসেন খান, সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, মো. রুহুল আমিন মোল্লা, সহকারী অধ্যাপক, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ, তাজনিন জাহান, সহকারী অধ্যাপক, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, এবং দীপঙ্কর কুমার সাহা, লেকচারার, ফার্মেসি বিভাগ। বিচারকরা প্রতিটি দলের প্রেজেন্টেশন মূল্যায়ন করেন এবং তাদের কার্যকরীতা, সামাজিক প্রভাব, উদ্ভাবনী চিন্তাধারা, এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করেন।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপন করে।
বিচারক ড. এমডি রফিকুল ইসলাম বলেন, “হাল্ট প্রাইজ শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের এক অপূর্ব সুযোগ।” তাজনিন জাহান উল্লেখ করেন, “যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চান, তাদের জন্য এই ধরনের প্রতিযোগিতা অনেক সুযোগ এনে দেয়। এছাড়া, যারা অর্গানাইজিং টিমে কাজ করেছে, তারা তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারবে।”
প্রতিযোগিতা শেষে ড. তাসলিমা আক্তার সকল অংশগ্রহণকারী, অতিথি ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফাইনাল রাউন্ডের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
হাল্ট প্রাইজ শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা নয় এটি ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরি করার একটি বিশাল মঞ্চ। শিক্ষার্থীরা এখানে ব্যবসা পরিকল্পনার পাশাপাশি গবেষণা, উপস্থাপনা ও দলগত কাজের দক্ষতা অর্জন করে। এই প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। আগামীতেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও বড় পরিসরে উদ্যোক্তা দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
হাল্ট প্রাইজের মতো প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, বাস্তবসম্মত সমস্যা চিহ্নিত করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সমাধানের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করে। ২০২৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল রাউন্ড সফলভাবে উদ্যোক্তা মানসিকতা বিকাশে অবদান রেখেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে।