@Anwar Murad
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে নীতিনির্ধারণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিভিন্ন মহল থেকে তার পেশাগত ভূমিকা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়ে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বেশিরভাগই স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবুও বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
টিভি টকশোয় বড় বড় কথা বলেন। বলেন না শুধু হবিগঞ্জের চুনারুঘাট-বাহুবলের কুখ্যাত রাজাকার তার বাবা সৈয়দ মহিবুল হাসানের কলঙ্কিত জীবনের কথা।
- একাত্তরে নিজ এলাকার ত্রাস, পরিবেশ দূষণকারী মহিবুল হাসান পাক হানাদার বাহিনীর দোসর হওয়ায় স্বাধীনতার পর আত্মগোপনে চলে যান। যুদ্ধাপরাধের মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে তিনি বের হন। ১৯৮৬ সালে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে আবার ’৯০-এর স্বৈরাচার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান।
রিজওয়ানা হাসান দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ বিষয়ক আইনি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তিনি পরিবেশ আইন নিয়ে কাজ করা সংগঠন বেলা (বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরিবেশগত ক্ষতি প্রতিরোধে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইনি উদ্যোগের কারণে পরিচিতি লাভ করেন। তার সমর্থকদের মতে, শিল্প দূষণ, নদী দখল, বন উজাড়সহ নানা বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তবে সমালোচকদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে তার নীতিগত অবস্থান শিল্প খাতের জন্য চাপ তৈরি করেছে এবং বিনিয়োগ পরিবেশে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান প্রক্রিয়া, শিল্প কারখানার অনুমোদন এবং কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশগত অনুমোদন সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি
-
রাজধানীর গুলশান ক্লাবের ঠিক উল্টোপাশে এক বিঘা জমির একটি প্লট আছে নসরুল হামিদের নামে। দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৫-এর জানুয়ারিতে বিপুর সব সম্পত্তি আদালতের মাধ্যমে ক্রোক করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেই ক্রোক তালিকায় নেই এই শত কোটি টাকার সম্পদ। অনুসন্ধানে দেখা যায়, রিজওয়ানার তদবিরের কারণে দুদকের তালিকা থেকে এই জমি বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে বাজার মূল্য অনুযায়ী এর দাম অন্তত ২০০ কোটি টাকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পারিবারিক পটভূমি নিয়েও আলোচনা দেখা গেছে। কিছু রাজনৈতিক মহল তার পরিবারের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বতন্ত্র সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সীমিত।
তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকীর ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যবসায়িক লেনদেন ও সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি

পরিবেশ নীতির ক্ষেত্রে পলিথিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, শিল্প দূষণ মোকাবিলা, পরিবেশ ছাড়পত্র প্রক্রিয়া এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, কিছু উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বা মাঝপথে থেমে গেছে। অন্যদিকে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, পরিবেশ রক্ষায় কঠোর নীতি গ্রহণ করলে স্বাভাবিকভাবেই কিছু শিল্প খাতের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা একটি জটিল বিষয়। নীতিনির্ধারকদের যেকোনো পদক্ষেপই বিভিন্ন পক্ষের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে বিতর্ক তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তারা বলছেন, অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হলে বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে এবং জনমনে বিভ্রান্তি কমবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্য যাচাই ছাড়া ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচারণা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
পরিবেশ ও উন্নয়ন—দুই ক্ষেত্রের সমন্বয় নিশ্চিত করতে নীতিগত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রমের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য নীতিমালা প্রয়োজন

বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান এবং তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন হলে বিষয়টির পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদায়ন বাণিজ্য করে রিজওয়ানা-এবি সিদ্দিকী জুটি শত কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে বলে মনে করেন বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। টেন্ডার ছাড়াই কাজ প্রদান-রিজওয়ানা পরিবেশ উপদেষ্টা হওয়ার পর সরকারি আইন কানুন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করতেন না। সরকারি ক্রয় বিধি লঙ্ঘন করে নিজের ঘনিষ্ঠজনদের দিয়েছেন কোটি কোটি টাকার কাজ। পরিবেশ অধিদপ্তরের নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, দেড় বছরে অন্তত তিনশো কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বিনা টেন্ডারে। এটা সুস্পষ্ট দুর্নীতি।

