মুজাহিদুল ইসলাম, জবি প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্রে ( ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট) নিভে গিয়েছিল বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।
১৯৭২ সালে সরকারি উদ্যোগে নজরুলকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয় এবং জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
কবি নজরুল এমন এক সময় জন্মেছিলেন ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ ( ১৮৯৯ সালের ৭ ই মে) যেসময় পরাধীন ভারতবর্ষ ইংরেজদের শাসন শোষণের জর্জরিত। নজরুল জন্মেছিলেন এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর একহাতে রণতুর্য নিয়ে।
মাত্র ৮ বছর বয়সে পিতাকে হারিয়ে কবির পরিবার চরম দারিদ্র্যে পতিত হয়। স্থানীয় মক্তব থেকে ১৯০৬ সালে প্রাইমারি বাস করেন এবং এক বছর সেখানেই শিক্ষকতা করেন। ১২ বছর বয়সে তিনি লেটোর দলে যোগদান করেন তখন থেকেই তিনি সৃষ্টিশীল সত্তার অধিকারী হয়ে ওঠেন। নজরুলের বিদ্রোহী কবিতাটি “সাপ্তাহিক বিজলী” পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তার কবি খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে লাভ করেন। তিনি নবযুগ(১৯২০), ধুমকেতু(১৯২২), লাঙ্গল(১৯২৫) তিনটি পত্রিকা সম্পাদনার কাজে নিযুক্ত ছিলেন।
নজরুল ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ।
তার মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি।
বিংশ শতাব্দীর বাঙালির মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। তার কবিতা ও গানের জনপ্রিয়তা বাংলাভাষী পাঠকের মধ্যে তুঙ্গস্পর্শী। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তার মানবিকতা, ঔপনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধতা বোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার বন্দনা গত প্রায় একশত বছর যাবৎ বাঙালির মানস পীঠ গঠনে ভূমিকা রেখে চলেছে।