রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রায় ৫৫ হাজার সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এছাড়া আরও একটি বড় সংখ্যক সেনা এখনও নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই তথ্য জানিয়েছেন। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর আগে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় এই মন্তব্যটি এসেছে।
জেলেনস্কি জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছে পেশাদার সেনা এবং বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সেনারা। তবে নিখোঁজ সেনাদের সঠিক সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, তখন পর্যন্ত ৪৬ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৪ লাখ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে রুশ হামলায় ইউক্রেনে ২ হাজার ৫১৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১২ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি।
ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি দাবি করেন, শুধু ২০২৫ সালে রাশিয়ার প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের অক্টোবর ২০২৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট ১১ লাখ রাশিয়ান সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, কিয়েভ যুদ্ধ শেষ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত রাশিয়া লড়াই চালিয়ে যাবে।
এদিকে, আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া নতুন দফার আলোচনাকে ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ ‘উৎপাদনশীল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে। সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার দখলে থাকা অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া এবং ইউরোপের সবচেয়ে বড় জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে ক্রিমিয়া এবং পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের বড় অংশ রয়েছে।

