রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে বাংলাদেশ তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম সম্মেলনটি আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হবে। বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে আলোচনার জন্য প্রাপ্ত বার্তা।’
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান গতকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কূটনীতিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। তিনি জানান, কক্সবাজারের সম্মেলনটি হবে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের আয়োজনে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক আয়োজন। এ ছাড়া ৬ ডিসেম্বর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি বৈশ্বিক সম্মেলন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, “একসময় রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক এজেন্ডা থেকে প্রায় বাদ পড়তে বসেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের আহ্বানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই সংকট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ১০৬ দেশ এ উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছে।” তিনি আরও জানান, যেহেতু রোহিঙ্গারা জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র নয়, তাই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরছে।
কক্সবাজার সম্মেলনের কর্মসূচি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে।
-
২৪ আগস্ট: রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ।
-
২৫ আগস্ট: মূল অনুষ্ঠান; এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
-
২৬ আগস্ট: আন্তর্জাতিক অতিথিরা রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।
জাতীয় টাস্কফোর্স বৈঠক
এদিকে রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতীয় টাস্কফোর্স (এনটিএফ) এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, রোহিঙ্গা সহায়তায় যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জিআরপি) অনুযায়ী এ বছর ৯৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। অর্থ ঘাটতির কারণে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনটিএফ সূত্র জানায়, জিআরপি–এর বাইরে জরুরি খাতে আরও প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে লাখাধিক রোহিঙ্গা জড়ো হচ্ছে বলে বৈঠকে অবহিত করা হয়।

