রাশিয়াকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বকেয়া অর্থ পরিশোধে অবশেষে অগ্রগতি হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অর্থপ্রদানে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটনের শিথিলতার সুযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানিয়েছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত রাশিয়ার দেনা পরিশোধে ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই পাওনা পরিশোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট’ ইতোমধ্যে সোনালী ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খোলার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেন মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশভিত্তিক হওয়ায় এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে জটিলতা থেকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রকল্পের জন্য ১০৩ কোটি ১৮ লাখ ডলার আলাদা করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ কোটি ডলার স্থানীয় খরচে ব্যবহার হলেও এখনো প্রায় ৮৫ কোটি ডলার পরিশোধের অপেক্ষায় আছে।
২০১৬ সালে রাশিয়ার অর্থায়নে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি হয়। চুক্তিমূল্যের ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করছে রাশিয়া। প্রকল্পের মূল ঋণ শোধ শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সাল থেকে। তবে বাংলাদেশ অতিরিক্ত দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড চেয়ে রেখেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থপ্রদানের পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প হিসেবে চীনের ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (সিআইপিএস) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সফল হয়নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ছাড় কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাওনা পরিশোধের পদক্ষেপ নিতে চায় বাংলাদেশ।

