নবীন মাহমুদ:
ঝালকাঠির নলছিটিতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত বিএনপির দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে হট্টগোল মঞ্চ দখল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে সিনিয়র নেতাদের অপমান ও অশালীন গালাগালির ঘটনায় হতভম্ব হয়েছেন কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নলছিটি উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই দোয়া অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টু, অধ্যাপক ডা. এস এম খালিদ মাহমুদ শাকিলসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ নেতা।
অনুষ্ঠানে সময়ের স্বল্পতা বিবেচনায় বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে হটাৎ করে এসে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি বক্তব্যরত জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টুর হাত থেকে মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেন। এতে মুহূর্তেই মঞ্চে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর সেলিম গাজীর নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের ২০-৩৫জন নামধারী মঞ্চে উঠে সিনিয়র নেতাদের সামনে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার স্বপনসহ উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
একটি দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে এমন বেপরোয়া ও অশালীন আচরণে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা, জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পরপরই দলীয় অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে তৃণমূল পর্যায়ে এর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া পড়বে।
এসময় ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম বিনয়ী রাজনীতিবিদ। তার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন—এখনো সময় আছে, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনয়ী হওয়ার চেষ্টা করুন। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী বলেন, “আমি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমাকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া হয়। সভা পরিচালনা করছিলেন নলছিটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তৌহিদ আলম মান্না। আমাদের বক্তৃতা দিতে না দেওয়ায় নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে বিএনপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে বলেন।
এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের পারভেজ বলেন, আমি কথা বলতে পারব না। একপর্যায়ে মান্না আমাকে ধাক্কা দেন। আমার সঙ্গে থাকা বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়।”
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. তৌহিদ আলম মান্না বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সেলিম গাজীর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও পূর্বপরিকল্পিত নীলনকশার অংশ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় নন এবং গতকাল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলেও তার নূন্যতম কোনো ভূমিকা ছিল না।সময় স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত রাখা হয়। আমি সঞ্চালক হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির নাম ঘোষণা করলে তিনি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে আমার দিকে তেড়ে এসে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অথচ আমি সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা ছাড়া কাউকে বক্তব্যের সুযোগ দিতে পারি না। পরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর নির্দেশনা অনুযায়ী আমি তাকে মাইক্রোফোন প্রদান করি।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।তারা বলেন, প্রায় ১০ হাজার মানুষের সামনে দলের সিনিয়র নেতাদের এভাবে অপমান করে প্রকাশ্য বিদ্রোহমূলক আচরণ শুধু দলের শৃঙ্খলাই ভঙ্গ করেনি, আসন্ন নির্বাচনে ঝালকাঠির দুইটি আসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্রুপিং রাজনীতির রেশ এখনো মিটে না যাওয়ায় এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

