ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইবি শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভে, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুছাব্বির ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’; ‘হাদি ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’; ‘সাজিদ আব্দুল্লাহ কবরে, খুনি কেন বাহিরে’; ‘খুন হয়েছে আমার ভাই, ঘরে থাকার সময় নাই’; ‘আমার সোনার বাংলায়, সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই’; ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’; ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’; ‘দিন দুপুরে মানুষ মরে, ইন্টেরিম কি করে’; ‘হাদী ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইবি শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মন্ডলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মণ্ডল বলেন, শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ, শহীদ ওসমান বিন হাদি ও শহীদ আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের নিষ্ক্রিয়তায় আমরা লজ্জিত। এই নির্বাচনের আগেই সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় প্রশাসনকে ঢাকার রাস্তায় নামতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইবি শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যার ছয় মাস পার হলেও এখনো তদন্তের অগ্রগতি নেই। প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা সেটা স্বীকার করে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করুক। দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
ইবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুব আলী বলেন, শহীদ সাজিদ, শহীদ হাদি ও শহীদ মুছাব্বির হত্যার বিচার না হওয়া আমাদের ব্যর্থতা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে এখনই তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনের ঐক্য ভাঙতে যে-কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৩ আগস্ট ভিসেরা রিপোর্টে জানা যায়, তার মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে। পরে সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ ইবি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রায় দুই মাস পর, ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান। ৭ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আজিজুর রহমান মুছাব্বির। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

