প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
হাসিনা ফেরার ঘোষণা দিলেও বিচারের মুখে আওয়ামী লীগ
ডেস্ক নিউজ ||
ভারত যাওয়ার দুই বছর পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেও বাংলাদেশে একই সময়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার কার্যক্রমও তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।গত ৫ আগস্ট, গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তির দিন দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করার আইনি সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাহী আদেশে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, রোম স্ট্যাটিউট ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন বিবেচনায় রেখে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হবে। তদন্তে সংগঠন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে দলটিকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিএনপিসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দল।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর সম্ভব নয় এবং দলটি আর রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসতে পারবে না।তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আদালতের মাধ্যমে বিচার ও নিষিদ্ধ করার নজির বাংলাদেশে নেই। অতীতে নির্বাহী আদেশে বিভিন্ন সংগঠন নিষিদ্ধ করা হলেও আদালতের রায়ে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়নি।জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে নাৎসি পার্টি নিষিদ্ধ হয়েছিল। তার মতে, তদন্তে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আওয়ামী লীগের বিচারের বিরুদ্ধে নৈতিকভাবে অবস্থান নেওয়া কঠিন হবে।অন্যদিকে সাবেক বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলের বিচারসংক্রান্ত আইনটি পরে সংশোধন করে যুক্ত করা হয়েছে। তবে দলগতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ উপস্থাপন করা সহজ হবে না।তিনি আরও বলেন, নীতিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে তিনি নন। তার মতে, ব্যক্তির অপরাধের বিচার হতে পারে, কিন্তু একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চা ও সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার চ্যালেঞ্জরাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা নীতিগতভাবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে।বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত, শক্তিশালী সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। পরে বিএনপি সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত বিধান আরও স্পষ্ট করে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম