প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
রংপুরে ৪ খুনের রহস্য উদ্ঘাটন
মোঃ রওকত আলী, রংপুর প্রতিনিধি ||
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার লোমহর্ষক রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ছাদে উঠে ইয়াবা সেবনের প্রতিবাদ করায় পুরো পরিবারটিকে একে একে শ্বাসরোধ ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত দুই তরুণকে ইতোমধ্যেই আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।আজ রোববার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।আটক হওয়া দুই অভিযুক্ত হলেন—স্থানীয় মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের সন্তান মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের সন্তান সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযুক্ত দুজন পাশের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়ির ছাদে গিয়ে মাদক সেবনে লিপ্ত হয়। ওই সময় গৃহকর্তা গণপতি চক্রবর্তী বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং তাদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা গণপতির গলার গামছা দিয়েই তাকে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে।স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী দ্রুত এগিয়ে এলে তাকেও গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। স্বজনদের আকুতি শুনে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ছুটে এলে তাকে প্রথমে কাপড় ও পরে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষে নিচতলায় গিয়ে শিশুটিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকরা ওই বাড়ির বাথরুম ব্যবহার করে গোসল করে। এরপর ডাইনিং টেবিল ও ফ্রিজ থেকে খাবার এনে খায় এবং পুনরায় মাদক সেবন করে। অপরাধের প্রমাণ ঢাকতে ও ঘটনাটিকে 'ডাকাতি' হিসেবে চালানোর উদ্দেশ্যে তারা ঘরজুড়ে তছনছ করে অলংকারাদি লুট করে। পরে দিনের বেলা জুমার নামাজের সময় বাড়িটিতে বাইর থেকে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়ে। পরবর্তীতে একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত মালামাল।উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার রাতে বন্ধ ঘর থেকে জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর সহধর্মিণী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), কন্যা প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং কনিষ্ঠ পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব দ্রুতই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম