প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
চরভদ্রাসনে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বরিশালের শামীম গ্রেপ্তার
||
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. শামীম (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একসময় মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শামীম পরবর্তী সময়ে মুদি দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে একটি দোকান থেকেই প্রায় ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। এ ছাড়া আরও ৪০ থেকে ৫০ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘদিন পর ঢাকার খিলগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।গ্রেপ্তার শামীম বরিশাল জেলার হিজলা থানার চরবিশোর গ্রামের ফারুক মোল্লার ছেলে। গত ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে খিলগাঁও থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকার খিলগাঁও ত্রিমোহনী টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৮ নভেম্বর রাত ১২টা ১০ মিনিটে তাকে চরভদ্রাসন থানায় আনা হয়। প্রয়োজনীয় পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ফরিদপুরের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে চরভদ্রাসন থানায় দায়ের করা ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ৪০৬/৪২০ ধারার মামলায় রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে চরভদ্রাসনের শিকদার ডাঙ্গি মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে শামীম আব্দুল শিকদারের ডাঙ্গি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ধর্মীয় পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।পরবর্তী সময়ে আলহাজ মৃধার ছেলেকে আরবি পড়ানোর সুবাদে ওই পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব ছেড়ে চরভদ্রাসন বাজারের ‘মক্কা মদিনা’ নামের একটি মুদি দোকানে কাজ শুরু করেন শামীম। ধীরে ধীরে দোকান মালিকের আস্থা অর্জন করেন। একসময় ব্যাংক হিসাবের তথ্য থেকে শুরু করে ব্যবসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তার হাতে ন্যস্ত করা হয়।অভিযোগ রয়েছে, এই বিশ্বস্ততার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দোকানের বিক্রির টাকা থেকে ধাপে ধাপে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি ব্যাংক হিসাব থেকেও টাকা উত্তোলন করেন তিনি। একপর্যায়ে ওই দোকান থেকেই প্রায় ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এরপরই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।শুধু ওই দোকানেই নয়, চরভদ্রাসন বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ব্যক্তির কাছ থেকেও টাকা ধার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শামীমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়ে তিনি লাপাত্তা হন। সব মিলিয়ে আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা হতে পারে বলে অভিযোগকারীদের ধারণা।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, মসজিদের ইমাম হিসেবে পরিচিতি ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে অনেকেই তাকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলেন। এমনকি একাধিক মসজিদের ইমামও তাকে সুদের বিনিময়ে টাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক সম্মান ও লোকলজ্জার কারণে তাঁদের অনেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেননি বলে জানা গেছে।অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে যাওয়ার পর নিজের পরিচিত পোশাক-পরিচ্ছদ পরিবর্তন করেন শামীম। টুপি-পাঞ্জাবি ছেড়ে দাড়ি কেটে ঢাকায় একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানে তার অবস্থান শনাক্ত হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফর আলী বলেন, “চরভদ্রাসন থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. শামীমকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার খিলগাঁও থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় আরও এক থেকে দুইজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তের স্বার্থে শামীমের সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি এবং অন্যদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।এদিকে, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম