প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
খুচরা বাজারে হাহাকার, কৃষকদের সার পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে
ডেস্ক নিউজ ||
ভোলার চরফ্যাশনে স্থানীয় কৃষকরা তীব্র সার সংকটে ভুগছেন। বেশি দাম দিয়েও বাজারে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না তারা। অথচ এই সংকটের মধ্যেই সরকারি সার নৌপথে পাচার হয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারে। অসাধু ডিলার ও চোরাকারবারিদের একটি চক্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, সার সংকটের কারণে কৃষকদের ভোগান্তি বাড়ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২২টি ইউনিয়নে ২২ জন নিবন্ধিত সার ডিলার রয়েছেন। সরকারি নিয়মে প্রতি মাসে প্রত্যেক ডিলারের নামে ২২ টন করে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব সার সরকার নির্ধারিত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রির কথা।তবে অভিযোগ রয়েছে, মূল কারসাজি হচ্ছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়নগুলোতে। এসব এলাকায় কৃষক ও আবাদি জমির পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও অন্যান্য ইউনিয়নের মতো সমপরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত থাকা সার বেশি মুনাফার আশায় চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় কৃষক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রথমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করা হয়। এরপর অবশিষ্ট সার গোপনে চোরাকারবারিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গভীর রাতে ট্রলারে করে নদী ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে এসব সার মিয়ানমারে পাচার করা হচ্ছে।তবে সার পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চর কুকরিমুকরি এলাকার ডিলার ও মেসার্স জাকির ট্রেডার্সের মালিক মো. জাকির হোসেন। তাঁর দাবি, নিয়ম মেনেই কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করছেন তিনি। কালোবাজারি বা অবৈধ বিক্রির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কোস্টগার্ড ও পুলিশের কয়েকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ সার জব্দের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে দক্ষিণ আইচা থানার তেঁতুলিয়া নদী থেকে ৪৯২ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে কোস্টগার্ড। এ সময় আটজনকে আটক করা হয়।এর আগে গত ১২ আগস্ট আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়া নতুন ফিশারি ঘাট এলাকা থেকে ২৯৩ বস্তা সার জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় সার পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও একটি ফিশিং বোটও আটক করা হয়। আটক করা হয় চারজনকে।এছাড়া গত ২৩ আগস্ট চর কচ্ছপিয়া ঘাটে ট্রলারসহ ১৭৫ বস্তা বিভিন্ন ধরনের সার জব্দ করে কোস্টগার্ড। পরে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হোসেনের উপস্থিতিতে অঙ্গীকারনামা নিয়ে সার ও ট্রলার ছেড়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি ছিল, সারগুলো স্থানীয় কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল।বেতুয়া এলাকার এক মাঝির অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই নৌপথ ব্যবহার করে সারসহ বিভিন্ন পণ্য মিয়ানমারে পাচার করছে। ফেরার পথে তারা ট্রলারে করে ইয়াবাসহ মাদকের চালান নিয়ে আসে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, সার পাচারের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আটক সার কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিচ্ছিন্ন ইউনিয়নগুলোতে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ পুনর্নির্ধারণ এবং উপকূলীয় নৌপথে কোস্টগার্ড ও পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম