প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
উল্লাস স্পোর্টসফেস্টে চ্যাম্পিয়ন গুলশান ইয়ুথ ক্লাব
ডেস্ক নিউজ ||
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত আন্তক্লাব ক্রীড়া উৎসব ‘উল্লাস ২০২৬’-এর দ্বিতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আয়োজক গুলশান ইয়ুথ ক্লাব। ১৩টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিয়ে ৮টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৬টি পদক জিতে সামগ্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ক্লাবটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সের গুলশান ইয়ুথ ক্লাব বাস্কেটবল কমপ্লেক্সে উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল খান।
অনুষ্ঠানে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ড. ওয়াহিদুজ্জামান (তামাল), সাধারণ সম্পাদক ও উল্লাস আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান, ইফফাত আমবারিন জয়া ও এম আমির আলী মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ রেশাদ হোসাইন খান এবং গণমাধ্যম ও বিপণন সমন্বয়ক অজয় কুমার কুন্ডুসহ ক্লাবের কার্যনির্বাহী ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্লাবের সভাপতি ও প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন উল্লাসের স্বর্ণপৃষ্ঠপোষক ও ওরিয়ন ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারিন করিম, রৌপ্যপৃষ্ঠপোষক মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং প্রাইম ব্যাংকের ব্র্যান্ড ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান নাবিলা খালিদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উল্লাস ২০২৬ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দলগত কাজ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের সুস্থ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে।
তিনি উৎসব সফল করতে অংশগ্রহণকারী ক্লাব, খেলোয়াড়, পৃষ্ঠপোষক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমকর্মী ও আয়োজক কমিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে উল্লাস ২০২৬-এর উল্লেখযোগ্য আয়োজন ও সাফল্য নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন তিনি।
গত ৩০ অক্টোবর শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী এ উৎসব শেষ হয় ৭ নভেম্বর। এতে দেশের ২৪টি ক্লাবের ১ হাজার ২০০-এর বেশি ক্রীড়াবিদ ও অংশগ্রহণকারী যুক্ত হন। ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, দাবা, ফুটবল, গলফ, পুল, প্যাডেল বল, সাঁতার, টেবিল টেনিস, টেনিস, কুইজ ও আর্ম রেসলিংসহ মোট ১৩টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর সভাপতি এবং পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সম্মাননা জানানো হয়।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লাস ২০২৬ ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তরুণদের জন্য ইতিবাচক সুযোগ তৈরি এবং সামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। দেশের সামাজিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখে এমন উদ্যোগে ব্যাংকটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান।
প্রাইম ব্যাংকের ব্র্যান্ড ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান নাবিলা খালিদ খেলাধুলার চর্চা, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে এ আয়োজনের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে ওরিয়ন ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারিন করিম বলেন, ক্রীড়াঙ্গনকে একত্র করা এবং তরুণ প্রতিভা বিকাশে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ক্লাবভিত্তিক ক্রীড়া আয়োজন নতুন প্রতিভা বিকাশ, দলগত কাজের মানসিকতা তৈরি এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আরও সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন ক্লাব ও ক্রীড়া সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ড. ওয়াহিদুজ্জামান (তামাল) অতিথি, অংশগ্রহণকারী ক্লাব, খেলোয়াড়, পৃষ্ঠপোষক, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রসার, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ক্লাবগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি জোরদারে কাজ করে যাবে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন) খেলাধুলা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সব বয়সী মানুষের জন্য সহজলভ্য ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন খেলার মাঠ গড়ে তোলা প্রয়োজন। বহুমুখী ক্রীড়া অবকাঠামো তৈরি করা গেলে খেলাধুলার মান উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ক্লাবের গণমাধ্যম, প্রচার ও বিপণন সমন্বয়ক অজয় কুমার কুন্ডু। তিনি বলেন, উল্লাস কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি বন্ধুত্ব, ঐক্য, সম্প্রীতি ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের উৎসব। ২৪টি ক্লাবের ১ হাজার ২০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে এ আয়োজন ক্লাবগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ তৈরি করেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি প্রদান। ১৩টি ক্রীড়া বিভাগে সর্বোচ্চ আটটি স্বর্ণপদকসহ মোট ১৬টি পদক জিতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব সামগ্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রধান অতিথি জাকারিয়া তাহের (সুমন) বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ক্লাবের সভাপতি ড. ওয়াহিদুজ্জামান (তামাল) এর হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন।
এ সময় ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইফতেখার রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ রেশাদ হোসাইন খান, যুগ্ম সম্পাদক আমির আলী মোস্তফা ও মো. শরিফুল ইসলাম ভরসা, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইফফাত আমবারিন জয়া এবং ক্লাবের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক শারমিন লাকির সঞ্চালনায় এতে সংগীত পরিবেশন করেন কিংবদন্তি গীতিকার ও সুরকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে সংগীতশিল্পী দিঠি আনোয়ার। পরে নৈশভোজ ও সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সপ্তাহব্যাপী এ ক্রীড়া উৎসব।
এবারের আসরে অংশ নেওয়া ২৪টি ক্লাব হলো— অল কমিউনিটি ক্লাব, বনানী ক্লাব, বাংলাদেশ চায়না ক্লাব, বারিধারা কসমোপলিটন ক্লাব, বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভ ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব, ক্লাব নটরডেমিয়ানস বাংলাদেশ, ক্লাব শাহীন, করপোরেট এক্সিকিউটিভ ক্লাব, ঢাকা বোট ক্লাব, ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, গুলশান নর্থ ক্লাব, আইবিএ অ্যালামনাই ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল রিক্রিয়েশন ক্লাব, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, নেদারল্যান্ডস রিক্রিয়েশন সেন্টার (ডাচ ক্লাব), নর্ডিক ক্লাব, সেইন্টস ক্লাব, সিলেট ক্লাব, ব্রিটিশ এইড গেস্ট হাউস অ্যাসোসিয়েশন ক্লাব, উত্তরা ক্লাব এবং আয়োজক গুলশান ইয়ুথ ক্লাব।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম