প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বর্ণাঢ্য আয়োজন মনিরামপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
ডেস্ক নিউজ ||
“করবো সমবায়, গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই প্রত্যয় ও স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে যশোরের মনিরামপুরে পালিত হয়েছে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬। সমবায় আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে এবং মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে দিনটিজুড়ে ছিল নানা কর্মসূচি।শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোনের পর মনিরামপুর পৌরশহরে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সমবায়ীদের অংশগ্রহণে র্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালী শেষে স্থানীয় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা।উপজেলা সমবায় অফিসার রনজিত কুমার দাশের সভাপতিত্বে এবং সমবায় নেতা ইলিয়াস হোসেনের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন,"সমবায় কেবল কিছু মানুষের অর্থনৈতিক মেলবন্ধন নয়; এটি মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে পারস্পরিক আস্থার এক অনন্য সেতুবন্ধন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সোনার বাংলা গড়ার অন্যতম হাতিয়ার হলো সমবায়। মধ্যস্বত্বভোগী ও শোষকদের হাত থেকে কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রক্ষা করে অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে সমবায়ের কোনো বিকল্প নেই। আসুন, বিভেদ ভুলে আমরা সবাই মিলে সমবায়ের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল ও বৈষম্যহীন সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সমবায়ের অঙ্গনকে এগিয়ে নিই। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা সমবায় অফিসার রনজিত কুমার দাশ বলেন,১৯০৪ সাল থেকে এ দেশে সমবায়ের যে শুভযাত্রা শুরু হয়েছিল, তার মূল ভিত্তি ছিল 'সবাই মিলে বাঁচি, সবাই মিলে গড়ি'। আজ দেশের সমবায়ীরা তাদের সততা ও পরিশ্রামের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। সমবায় মানেই গণতন্ত্রের প্রাথমিক পাঠ, যেখানে প্রতিটি সদস্যের সমান অধিকার ও মতামতের মূল্য রয়েছে। মনিরামপুরের প্রতিটি সমবায় সমিতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করে তুলতে আমাদের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মনিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতা খান আক্তার হোসেন, মহিলা এমপি মনোনীত ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রভাষক খলিলুর রহমান,জামায়াত নেতা অধ্যাপক আহসান হাবিব লিটন এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খান শফিয়ার রহমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমবায় আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হলে পারস্পরিক বিশ্বাস ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ে যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানের পথে ধাবিত করতে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে সমবায়ভিত্তিক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুধীবৃন্দ এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক উৎসাহী সমবায়ী উপস্থিত ছিলেন। দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরতে সফল সমবায়ীদের মাঝে বিশেষ সম্মাননা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, যা অন্যদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম