প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
সৌরভ আহমেদ সাগর , জাককানইবি প্রতিনিধি ||
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বিচার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রকাশের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে বিভাগের সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনের আশ্বাসের পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়ায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আদনান হাবিব নিশাত জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ামাত্রই শৃঙ্খলা কমিটির সভা আহ্বান করা হবে বলে উপাচার্য তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন। সেই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা এখন সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও বিচারের ফলাফল অবিলম্বে সবার সামনে প্রকাশ করতে হবে। সভার পরপরই ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব না হলে জরুরি ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সিন্ডিকেট সভার তারিখ ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিচার ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে পাশের মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে বিরোধটি কয়েক দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়।ঘটনার পরদিন ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।তবে ২০ দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি।তদন্ত কমিটির সদস্য ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম জানান, একাডেমিক কারণে সংশ্লিষ্ট অনেকের ক্লাস ও পরীক্ষা থাকায় সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিতে কিছুটা সময় লাগছে।তিনি বলেন, ‘আশা করছি, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব। তদন্তের প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু প্রতিবেদনটি লিখিতভাবে প্রস্তুত করার কাজ বাকি।’এর আগে ২৮ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন তাঁদের আশ্বস্ত করে জানান, তদন্ত কমিটির সুপারিশসহ প্রতিবেদন শৃঙ্খলা বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী সময়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম