প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কালাইয়ে কৃষকের জমি নিয়ে বিরোধ অপরিপক্ক কাটা হলো সাড়ে ৪০০ বাঁশ
আব্দুর রাজ্জাক , জয়পুরহাট প্রতিনিধি ||
জয়পুরহাটের কালাইয়ে জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা ও বিরোধের জেরে একটি বাঁশঝাড় থেকে অপরিপক্ক প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি বাঁশ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।গত কাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, কেটে ফেলা বাঁশের আনুমানিক মূল্য ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।ভুক্তভোগী আজিজার রহমানের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাত্রাই মৌজার এমআরআর খতিয়ান নম্বর ৩২৭ ও দাগ নম্বর ৬৫৮-এর ৬৬ শতক জমির মধ্যে চার শতক জমিতে তাঁদের পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া বাঁশঝাড় রয়েছে। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছর ধরে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে সেখানে প্রবেশ করে বাঁশঝাড় থেকে অপরিপক্ষ ৪০০ থেকে ৪৫০টি বাঁশ কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, বাঁশ কাটার সময় বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় দা, কুড়াল, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় রেজাউল ইসলাম, আব্দুস সামাদ, শাহজাহান আলী, আব্দুস সাত্তার, সজল ও আব্দুল মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আব্দুস সামাদ বলেন, মানিক আমার নাতি হন। কীভাবে জমি পাবে, ওরা কাগজপত্র নিয়ে বসুক। যার কাগজপত্র সঠিক, তারাই জমি ভোগদখল করবে। মানিকের রোপণ করা বাঁশ কেটে ফেলা ও তার কাছ থেকে দুই লক্ষ ষাট হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দিয়ে এড়িয়ে যান।ভুক্তভোগী আজিার রহমানের ছেলে মানিক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে বিরোধ মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে আব্দুস সামাদ দুই দফায় আমার কাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপরও বিরোধ নিষ্পত্তি না করে আব্দুস সামাদসহ কয়েকজন লোকজন নিয়ে আমার অপরিপক্ব বাঁশগুলো জোরপূর্বক কেটে ফেলেছেন। এ ঘটনায় আমি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম