প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ট্রাম্পের এশীয় মিত্রদের শাস্তি দিতে হরমুজে টোল বসাচ্ছে ইরান?
ডেস্ক নিউজ ||
হরমুজ প্রণালিতে আমেরিকার মিত্র দেশগুলোকে শাস্তি দিতে চায় ইরান। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ৩ নভেম্বর তেহরান ঘোষণা করে, কোন কোন দেশ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। ইরানি সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান আমির হায়াত মুকাদ্দাম জানান, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজগুলো এই প্রণালি অতিক্রমের ক্ষেত্রে তাদের ট্রানজিট বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পাবে।
তিনি আরও যোগ করেন, এই জাহাজগুলো অবাধেই চলাচল করছে এবং আমেরিকানরাও সেগুলোকে বাধা দিচ্ছে না। যদিও এই মন্তব্যগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক ডিক্রি বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসেনি বরং একটি সংসদীয় সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও এটি গত মার্চে তৈরি করা একটি ধারার ধারাবাহিকতা বহন করে, যখন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানে নতুন করে বিমান হামলা পরিচালনা করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে নির্বাচনের পরেই যুদ্ধের অবসান ঘটবে, অথচ গত জুন মাস থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পাম্পে জ্বালানি তেলের দাম গ্যালন প্রতি ৪ মার্কিন ডলারের উপরে অবস্থান করছে।
৪ নভেম্বর ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসে বিশাল জয় এবং নতুন করে বিমান হামলার ঝুঁকির বিষয়টি যখন বাজার পর্যবেক্ষণ করছিল, তখন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ১০২.৮৭ ডলারে নেমে আসে। ব্রেন্ট ক্রুডের ফ্রন্ট-মান্থ ফিউচার্সের দাম প্রায় ৬% হ্রাস পাওয়ার ঘটনাটি ঘটে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি টুইটের সাথে সাথে। সেখানে ভ্যান্স উল্লেখ করেন যে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের বড় কারণ ছিল ইরান যুদ্ধ। যা যুদ্ধ বাড়ানোর পরিবর্তে অবসানের দিকে একটি সম্ভাব্য মোড় বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এশীয় সরকারগুলোর জন্য তাই কৌশলগত প্রশ্নটি শুধুমাত্র ওয়াশিংটন উত্তেজনা বৃদ্ধি বা আলোচনার পথ বেছে নিচ্ছে কি না তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এই মধ্যবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের অধিকার কার থাকছে তাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের ঘোষিত এই ছাড়গুলো একটি যুদ্ধকালীন অবরোধকে মূলত জাতীয়তার ভিত্তিতে লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করেছে।
গত মে মাস থেকে ইরানের পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি কেবল ফি পরিশোধের বিনিময়ে ট্রানজিট পারমিট ইস্যু করে আসছে। খবর অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে চীনা ইয়ুয়ানে প্রতি ট্রানজিটের জন্য প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
মুকাদ্দাম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে প্রতিটি ছাড় তেহরানের জন্য কী সুবিধা নিশ্চিত করে। যেমন, ভারতের জন্য দেওয়া ছাড় ইরানের ওষুধ আমদানিকে সহজতর করে, আর চীনের জন্য দেওয়া ছাড়ের উদ্দেশ্য হলো বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা। ভারতীয় ও চীনা জাহাজগুলোকে ট্রানজিট ফি দিতে হয়, আর কাতারি জাহাজগুলো কোনো খরচ ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রণালি অতিক্রম করে।
তেহরান এই চার্জগুলোকে নেভিগেশন ও পরিবেশগত পরিষেবার জন্য ফি হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং এই বিষয়ে তুর্কি প্রণালিকে একটি তুলনামূলক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছে। তবে এই তুলনাটি গ্রহণযোগ্য বা প্রণোধক নয়, কারণ মন্ট্রোক্স কনভেনশন হলো একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি যা সুনির্দিষ্ট পরিষেবার জন্য চার্জ নির্দিষ্ট করে দেয়।
এর বিপরীতে, হরমুজ প্রণালি জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সম্পর্কিত কনভেনশনের (ইউএনসিএলওএস) ট্রানজিট অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে, যেটিতে ইরান স্বাক্ষর করলেও তা কখনোই অনুমোদন করেনি।
সূত্র: এশিয়ান টাইমস
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম