প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীদের আঘাতে আহত বিচারপ্রার্থী
বিনোদন ডেস্ক ||
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর ও ভাঙচুর মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হওয়ার পরপরই চিত্রনায়িকা পরীমনির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের (বাউন্সার) হামলায় আদালত প্রাঙ্গণ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরীমনির বাউন্সারদের অতর্কিত হামলা, লাঠিপেটা ও ধাক্কাধাক্কিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী এবং এক সাধারণ বিচারপ্রার্থী রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন।আজ বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর ২০২৬) সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এই সংঘাত ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে।মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আজ সকালে ১০ জন ব্যক্তিগত সশস্ত্র বাউন্সার বা নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন পরীমনি। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর পুনরায় জামিন মঞ্জুর করেন।আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরীমনি আদালত ভবন থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ছবি ও বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সংবাদকর্মী এবং আশেপাশে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে পেটানো ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।পরীমনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের সরাসরি হামলায় বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আঘাতপ্রাপ্ত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন:বাউন্সারদের অতর্কিত হামলায় মারাত্মক আঘাত পান ‘জাগো নিউজ’-এর নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবদুল্লাহ আল কাউছার। আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে মারাত্মক চোট লাগে। এ সময় আশিকুজ্জামানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়ার তীব্র অভিযোগ ওঠে। আহত আশিকুজ্জামানকে দ্রুত পাশের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। ‘সমকাল’-এর আদালত প্রতিবেদক রবিউল হোসেন অভিযোগ করেন, চিত্রনায়িকা পরীমনি নিজেই তাঁর হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে ‘আগামীর সময়’-এর প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন অভিযোগ তুলে জানান, পরীমনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর হাতে খামচি দিয়েছেন।পরীমনির বাউন্সারদের এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা ও হামলায় আদালতের কাজ শেষে বের হওয়া এক সাধারণ বিচারপ্রার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন। পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাঁকে মাথায় ব্যান্ডেজ পরা অবস্থায় উদ্ধার করেন।আদালত চত্বরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্পর্শকাতর স্থানে এমন সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার সময় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ সদস্যরা কেন নীরব ভূমিকা পালন করছিলেন—তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত বিটে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম