প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংকের রেফ্রিজারেটরেও এবার সাইবার হামলা
ডেস্ক নিউজ ||
ইউরোপজুড়ে সাইবার নিরাপত্তার এক নতুন ও উদ্বেগজনক চিত্র উন্মোচন করে ফ্রান্সের ব্লাড ব্যাংক এবং একাধিক দেশের সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেটরে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে ফ্রান্সের তিনটি ব্লাড ব্যাংকের রেফ্রিজারেটর এই সাইবার হামলার শিকার হয়। প্রায় একই সময়ে সুইডেন থেকে শুরু করে বেলজিয়াম পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন সুপারমার্কেটের ফ্রিজিং সিস্টেমেও আঘাত হানে হ্যাকাররা, যা পুরো মহাদেশজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ফ্রেঞ্চ ব্লাড এস্টাবলিশমেন্ট (ইএফএস)-এর বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক স্থাপনা একটি সাইবার নিরাপত্তা জটিলতার শিকার হয়েছে, যা নির্দিষ্ট কিছু কোল্ড স্টোরেজ কক্ষের পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে এই শঙ্কা সত্ত্বেও স্বস্তির বিষয় হলো, এই হামলায় রক্তের মজুতের কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইএফএস-এর মুখপাত্র চার্লি দুবোয়া। তিনি জানান, যেহেতু যেকোনো সময় রক্তের প্রয়োজন হতে পারে, তাই তাদের কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। সিস্টেমের সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত সমস্যার বিষয়টি ধরতে সক্ষম হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের প্যাকেটগুলোকে ইন্টারনেট সংযোগবিহীন সাধারণ রেফ্রিজারেটরে সরিয়ে নেন, ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, ঠিক একই সময়ে ইউরোপের আটটি দেশের সুপারমার্কেটগুলোর রেফ্রিজারেটরেও কারসাজি চালায় হ্যাকাররা। এর ফলে তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যায় এবং ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সেই খাবারগুলো ফেলে দেন। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া কয়েক ডজন সুপারমার্কেটের ঘটনার সঙ্গেই এই নতুন হামলার তীব্র মিল রয়েছে। বুধবারের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত রেফ্রিজারেটরগুলোর দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ বা রিমোট অ্যাক্সেস স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে এই হামলাটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল, কোন কোন সরঞ্জাম এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কখন এই ব্যবস্থাগুলো নিরাপদে পুনরায় চালু করা যাবে, তা খতিয়ে দেখতে এখন বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
এর আগে গত মাসেও ফ্রান্সে প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল যে, হ্যাকাররা শত শত সুপারমার্কেটের কুলিং ইউনিটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল, যার ফলে কোথাও কোথাও আগুন ধরে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হয়। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ইউরোপে যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার প্রেক্ষাপটে ইন্টারনেট-সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে এমন অভাবনীয় নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয়টি পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম