প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সৈয়দপুরে ডাস্টবিন উচ্ছেদ ময়লা নিয়ে দূর্ভোগের শিকার শতাধিক পরিবারের ক্ষোভ
শাহজাহান আলী, নীলফামারী প্রতিনিধি ||
মাত্র দুই জনের সুবিধার জন্য শতবর্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত একটা ডাস্টবিন উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ময়লা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শতাধিক পরিবার। ফলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তারপরও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। এই ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে অফিসার্স কলোনির খানকায়ে কাদেরিয়া মোখতারিয়া আনোয়ারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা এলাকায়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় ঘটনাস্থলে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এতে সর্বস্তরের নারীপুরুষ অংশ গ্রহণ করে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। এলাকার বয়োবৃদ্ধ মো. গোলাম (৭২) বলেন, এই এলাকা মূলতঃ রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য সরকারি ভাবে বরাদ্দ কোয়াটার অধ্যুষিত কলোনি। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে একটা ময়লার ডাস্টবিন ছিল। সম্প্রতি পৌরসভার উদ্যোগে এলাকার রাস্তা সংষ্কার করা হচ্ছে। এরই মাঝে হঠাৎ করে প্রতিবেশী সারফারাজ ও আদনান ডাস্টবিনটি ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নেন। এতে এলাকাবাসী বাধা দিলে তারা অকথ্য গালিগালাজ করাসহ নারীদের হেনস্তা করেছেন। এমনকি বহিরাগতদের এনে আসলাম নামে একজনের উপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। এঘটনায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে আসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ উল্টো আমাদেরকেই শাসাচ্ছে এবং মামলার ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে।একদিকে ময়লা ফেলা নিয়ে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে সারফরাজ গং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। শত শত মানুষের এই সমস্যা নিরসনে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তবুও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে দূর্ভোগ বেড়েই চলেছে। আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি চাই এবং ডাস্টবিন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। রুখসানা শিরিন (৫৫) বলেন, মাত্র ২ টা পরিবার তাদের সুবিধার জন্য আমাদের শতাধিক পরিবারকে কষ্টে ফেলেছেন। ডাস্টবিন উচ্ছেদ করায় এখন আমরা ময়লা ফেলার জায়গা পাচ্ছিনা। পুরো মহল্লার মানুষ ময়লা আবর্জনা নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। আমরা আমাদের ডাস্টবিন চাই। আর এই ভোগান্তির জন্য দায়ীদের বিচার দাবি করছি। আসলাম আলী (৪৭) বলেন, সারফারাজ ও জনির পরিবারের লোকজন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ডাস্টবিনটি ভেঙ্গে ফেলেছে। এনিয়ে প্রতিবাদ করায় বাহির থেকে লোক এনে আমাকে মারপিট করেছে। মাত্র দুইজনের জন্য আমরা শত শত মানুষ সমস্যায় পড়েছি। এজন্য এলাকার সাবেক কাউন্সিলর শাহীন আকতার শাহীনকে জানালে তিনি ডাস্টবিন পূনরায় স্থাপনের আশ্বাস দেন। পৌর প্রশাসকও একই কথা বলেছেন। কিন্তু আজও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো উচ্ছেদকারীরা নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে। নিরুপায় হয়ে খোলা জায়গাতেই ময়লা ফেলতে হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ ঘটছে। জাবেদ (৪২) বলেন, সারফারাজ ও জনিরা তাদের বাড়ির সামনে হওয়ায় দুর্গন্ধের অজুহাতে ডাস্টবিন ভেঙ্গে ফেলেছে। অথচ তাদের বাসার সামনে রাস্তা আর পেছনে ডাস্টবিন। এখন তারা ময়লা আবর্জনা ড্রেনে ফেলছে। এমনকি তাদের টয়লেটের সংযোগ সরাসরি ড্রেনের সাথেই যুক্ত। মূলত: ইচ্ছেকৃতভাবেই এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে তারা। এখন আমাদেরকেও বাধ্য করছে। জেসমিন (৩২) বলেন, বলা হচ্ছে পৌরসভা থেকে ঘরে ঘরে প্লাস্টিকের ড্রাম দেওয়া হবে। তাই ডাস্টবিন উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের বাসাগুলো খুবই সংকীর্ণ জায়গায়। ওই ড্রাম রাখার স্থান নাই। তাছাড়া ড্রামে গৃহস্থালি সব ধরনের ময়লা আবর্জনা রাখা সম্ভব নয়। আর আমরা গরীব মানুষ। ড্রামের ভাড়া দেওয়ার মত স্বচ্ছলতা নাই। তাই দ্রুত ডাস্টবিন তৈরি করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এবিষয়ে প্রতিপক্ষ সারফারাজের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ডাস্টবিন আমরা ভাঙ্গি নাই। পৌরসভার ডাস্টবিন আমরা কি করে ভাঙ্গবো। পৌরসভাই ভেঙ্গেছে। তাহলে আসলাম আলীকে মারধর করেছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এব্যাপারে সাবেক কাউন্সিলর শাহীন আকতার শাহীন ভাইয়ের সাথে কথা বলেন। তিনিই সব বলবেন। এটাতো তার বিষয় নয় এবং এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি। তাহলে তাকে দেখাচ্ছেন কেন প্রশ্ন করলে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নাই সারফারাজ।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম