প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
সাজেক সড়কে আজ চতুর্থ দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে
ডেস্ক নিউজ ||
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনসমৃদ্ধ সাজেকে টানা আট দিনের অবরোধ শেষে ১ নভেম্বর (রোববার) ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও ওই দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবহন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। এতে সাজেকের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে এবং পরিবহন খাতে দেখা দিয়েছে বিপুল আর্থিক লোকসান। একই সঙ্গে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর, দিঘীনালা, খাগড়াছড়িসহ দেশের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয় বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতা-বিক্রেতার স্বাভাবিক উপস্থিতি না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।সাজেকের অর্থনীতি মূলত পর্যটন, পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিনির্ভর। অবরোধের কারণে এসব খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, জিপ ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবসায়ীদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যটকদের আগমন বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগকারী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন শ্রমিক ও মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘ দিন ধরে টানা যানবাহন চলাচল বন্ধ বা সীমিত থাকায় চালক, সহকারী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জীবিকা সংকটে পড়েছে।অবরোধের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায়ও। যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। একইভাবে জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বেড়েছে। অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।সাজেকে চলমান পরিস্থিতি নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা মিনি কনফারেন্স হলে হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা জানান, সাজেকে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন জড়িত নয়। এ সময় উপস্থিত হেডম্যান ও কার্বারীরা মত দেন, যেহেতু সমস্যাটির সূত্রপাত সাজেককে কেন্দ্র করে, তাই মূল ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে বিরাজমান পরিস্থিতির যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান করা প্রয়োজন।এদিকে, একই দিন বিকেলে রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং জেলা প্রশাসক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে সাজেকে যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা হলেও চলমান সংকট নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে সাজেকে বিরাজমান অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থা শুধু সাজেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকেও দুর্বিষহ করে তুলছে। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতিতে অবরোধের অবসান এবং জনজীবনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপ ও সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম