প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
মিরপুরে ফের উত্তেজনা, সড়কে নামার আগেই শ্রমিকদের সরিয়ে দিল পুলিশ
ডেস্ক নিউজ ||
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের মিরপুরের সড়কে নামতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) ২০২৬ সকাল ১১ টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে পুলিশি ধাওয়ায় পিছু হটেন শ্রমিকরা। পরে তারা নিজ নিজ কারখানার ভেতরে ফিরে যান।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে মিরপুর ১০ নম্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন।একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশের বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন।মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার জরিনা খাতুন জানান, শনিবার থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক অসন্তোষের ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালেও শ্রমিকেরা রাস্তায় নামার চেষ্টা করেন। মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে ১০ নম্বরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।সোমবার সকাল ১১টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা যায়। ওই সময় এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। আশপাশের সড়কে কোনো শ্রমিককে অবস্থান করতে দেখা যায়নি।ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর) মহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুর ১০ নম্বরে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সকালের দিকে মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকায় কিছু শ্রমিক রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও ঘোষণার পরও যারা সড়কে নেমে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছে, তারা দুষ্কৃতকারী।এদিকে সোমবার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর ২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেলা সোয়া ১২টা পর্যন্ত সেখানে উত্তেজনা ও সংঘাত চলছিল বলে জানা গেছে।উল্লেখ্য, গত শনিবার মিরপুরের কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।রোববার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। পরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।টানা দুই দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর সোমবার নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মিরপুর ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম