প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
শিক্ষক ১৪ জন, শিক্ষার্থী মাত্র একজন—সেই পরীক্ষার্থীও ফেল
আরিয়ান টুটুল , কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ||
কুষ্টিয়ায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থী সংকট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জেলার দুটি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে একটি কলেজে ১৪ জন শিক্ষক থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছেন।জানা গেছে, কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজে বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য তিনজন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে দুজন পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকেন। একমাত্র অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।কলেজটির অধ্যক্ষ মজিবর রহমান জানান, চরসংলগ্ন গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থী ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী কৃষিকাজে যুক্ত থাকায় নিয়মিত পড়াশোনা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখায় না। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী সংকট বাড়তে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, মিরপুর উপজেলার আমলা সদরপুর বামুনপাড়ায় অবস্থিত হাজী নুরুল ইসলাম কলেজের চিত্রও একই। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটিও এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৩ জন। চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ১৫ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হলেও সাতজন পরীক্ষায় অংশ নেননি। বাকি আটজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। কলেজটির অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বিনা বেতনে তাঁরা কলেজের পেছনে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করে ভর্তি করানো হলেও এবার পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষানুরাগী খন্ধকার মিলন বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া অবশ্যই উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থী সংকট কিংবা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষার মানের সঙ্গে আপস করার সুযোগ নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম