প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
ধসের মুখে ইসরায়েল, টিকে থাকা নিয়েই শঙ্কা সাবেক সেনা জেনারেলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইতজাক ব্রিক। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক সমর্থন ও মিত্রদেশগুলোর সহযোগিতা হারিয়ে ইসরায়েল এখন অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে। খবর আনাদোলুর।ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মারিভে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ ধস’ হিসেবে বর্ণনা করেন ব্রিক। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে তিনি ‘আমাদের পরিচিত ইসরায়েল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক মৃত্যুসনদ’ বলেও মন্তব্য করেন।এ সময় ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ব্রিকের মতে, দেশটির সংবাদমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা ডুবতে থাকা টাইটানিক জাহাজে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অর্কেস্ট্রার সংগীত বাজিয়ে যাওয়ার মতো।
সশস্ত্র বাহিনীর কলেজগুলোর সাবেক অধিনায়ক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সৈন্য অভিযোগবিষয়ক ন্যায়পাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্রিকের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল এখন বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই মাত্রার আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে দেশটির পক্ষে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।
ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনীর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। তার দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বিভিন্ন দিক থেকে আসা হামলা মোকাবিলার মতো সামরিক সক্ষমতা এখন আর ইসরায়েলি বাহিনীর অবশিষ্ট নেই। ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত এই বাহিনীর পক্ষে বড় ধরনের কোনো অনুপ্রবেশ প্রতিহত করা কিংবা সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কঠিন হবে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিক। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের জাতীয় ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন শেকেলে, যা প্রায় ৪৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা দেশটির সংকটকে আরও গভীর করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম