প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
একসাথে ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার
ডেস্ক নিউজ ||
বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ইউনিটে ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত দুর্নীতির চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একযোগে ২৮ জন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার সদস্যরাও এই তালিকার মধ্যে রয়েছেন।আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।খুলনা রেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলার থানা, ট্রাফিক বিভাগ এবং গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা।থানা প্রশাসন ছাড়াও ট্রাফিক পুলিশ এবং গোয়েন্দা শাখার বিভিন্ন ইউনিটের বিতর্কিত সদস্যরা এই প্রত্যাহারের আওতায় এসেছেন।খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোড. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমান সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাহিনীর ভেতর থেকেই শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।“এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পুলিশের ওপর জনআস্থা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হয়। আইজিপি স্যারেরও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে এ ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের। সে ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে এমন শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”—বলেন ডিআইজি।বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। কিন্তু আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পরও যদি কোনো সদস্য অনৈতিক উপায়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তা বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলা গ্রহণ কিংবা তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অনৈতিক লেনদেন বা পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কেবল বদলি বা ক্লোজ করার মতো প্রশাসনিক শাস্তিই যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে পুলিশ বাহিনীতে জনগণের প্রত্যাশিত আস্থার পরিবেশ বজায় থাকে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম