প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ভোট গণনা প্রায় শেষ, ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে আসছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও কে হচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাচন শেষ হলেও ক্ষমতায় কে আসছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হতে না পারলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এ দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়া নেতাকে মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য ৪২ দিন সময় দেওয়া হয়।তবে এই সময়ের মধ্যে কোনো দল বা জোট প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারই দায়িত্ব পালন করতে পারে।
এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে। এতে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর ইসরায়েলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে বলা হয়, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী, কট্টর ডানপন্থী ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৪৮টি।
আরব ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন, যা হবে রেকর্ডসংখ্যক। ফলে এসব দলের সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। তবে অনেক ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।
ভোট গণনা পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় আসনসংখ্যার হিসাবে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে নেতানিয়াহুর বিরোধীদের যে শক্ত অবস্থানের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তারা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা চলাকালে এবং সম্ভাব্য নতুন নির্বাচন পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ ধরনের সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংযম দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের থাকে।
ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতোই। তবে এ ধরনের সরকারের কাছ থেকে সংযম প্রত্যাশা করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সীমিত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের হাতে থাকতে পারে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম