প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সেভেন সিস্টার্সে পৌঁছাতে বাংলাদেশের বন্দর ঘিরে জাপান-ভারতের বড় পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য বা ‘সেভেন সিস্টার্সের’ সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে জাপান। গত বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ভারতের পক্ষ থেকে এ বক্তব্য আসে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান টোকিও সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব চুক্তির ফলে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের উন্নয়নে বাংলাদেশকে আরও জাপানি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বন্দরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জাপানের সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও জাপানকে যুক্ত করে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ চলমান আছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই পক্ষের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি।তিনি আরও জানান, এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষকে জাপানি ভাষা শেখানো হচ্ছে। এর ফলে ভারত ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আওতায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো জাপানের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া। সফরকালে তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জাপানের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলটির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরটির কার্যকর ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে দেশটি।
বর্তমানে বড় আকারের জাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলটির উন্নয়ন এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এ পরিস্থিতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ বিবৃতিতে ‘যোগাযোগব্যবস্থা’ অংশে মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বন্দরটির উন্নয়নকাজ আরও জোরদার করার বিষয়ে জাপানের আগ্রহের কথাও তুলে ধরা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে দুই প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বিগ-বি (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) ’ উদ্যোগের ভিত্তিতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে সরবরাহ ও পণ্য পরিবহন, জ্বালানি এবং শিল্পের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।
এই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের শিল্প ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম