প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১৭-১৮টি বিয়ে করেছেন—স্বামীর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বক্তা তাশরীফের মা!
ডেস্ক নিউজ ||
আলোচিত ইসলামী বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে অসুস্থ বাবার ভরণ-পোষণ না দেওয়া ও খোঁজখবর না রাখার অভিযোগ ওঠার পর এবার মুখ খুলেছেন তাঁর মা। ছেলের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি স্বামী মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তাশরীফের বাবা তাঁর সঙ্গে সংসার করার সময়ই সাতটি বিয়ে করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী মোট ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তাশরীফের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এসব কথা বলেন তাঁর মা।ভিডিওতে তাশরীফের মা দাবি করেন, ছেলে বাবার ভরণ-পোষণ দেন না কিংবা তাঁর খোঁজখবর রাখেন না—এমন অভিযোগ সত্য নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাশরীফ প্রতি মাসে বাবাকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিতেন। তবে সাম্প্রতিক পারিবারিক বিরোধের কারণে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সেই টাকা দেওয়া হচ্ছে না।তাশরীফের মায়ের অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে বিরোধের কারণেই তাঁর স্বামী ছেলের বিরুদ্ধে এসব কথা বলছেন। অন্য মানুষের কথায় প্রভাবিত হয়েও তিনি ছেলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।স্বামীর একাধিক বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে তাশরীফের মা বলেন, তাঁর সঙ্গে সংসার করার সময়ই হেদায়েতুল্লাহ সাতটি বিয়ে করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী মোট ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন।এর আগে অসুস্থ অবস্থায় ছেলে তাঁর ভরণ-পোষণ করছেন না এবং খোঁজখবর রাখছেন না বলে অভিযোগ করেন মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। একটি জাতীয় দৈনিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও সাক্ষাৎকারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি এসব কথা বলেন।হেদায়েতুল্লাহর দাবি, ছেলের পরামর্শে তিনি মসজিদের ইমামতির চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিনিময়ে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও পরে তিনি আর সেই টাকা পাননি।তিনি আরও জানান, ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে মাওলানা ও হাফেজ বানিয়েছেন। ছোটবেলায় তাশরীফের প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় আর্থিক সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।বাবার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘মিডিয়া চাইলে বাপকেও কিনতে পারে।’এদিকে, সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় ওই শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তাশরীফ। পরে এ বিষয়ে লাইভে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।বাবার অভিযোগ ও মায়ের পাল্টা বক্তব্যের পর তাশরীফের পারিবারিক বিরোধ এখন আলোচনায় এসেছে। তবে বাবার একাধিক বিয়ে এবং ভরণ-পোষণ নিয়ে বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম