প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
চিকিৎসার অভাবে আট বছর বয়সী সুরাইয়ার জীবন বিপন্ন, মানবিক সহায়তার আবেদন
ফেরদৌস আলী , জেলা প্রতিনিধি ||
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন আট বছর বয়সী নাতনি সুরাইয়া আক্তারকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নানি আমেনা খাতুন। অর্থাভাবে নাতনির চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি। অন্যদিকে, শিশুটিকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করতে গিয়ে কাজেও যেতে পারছেন না। ফলে অনাহার-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাঁরা।আমেনা খাতুন উপজেলার পুড়াগাঁও ইউনিয়নের সমশ্চুড়া গ্রামের মৃত সমর আলীর মেয়ে। তিনি সমশ্চুড়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা। একসময় শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু বড় মেয়ের ঘরের নাতনি সুরাইয়া আক্তারকে নিয়ে এখন তাঁর দুশ্চিন্তার শেষ নেই।সুরাইয়ার বাবা সুজন মিয়া ও মা হাসিনা ঢাকায় থাকেন। সুজন মিয়া সেখানে শ্রমিকের কাজ করেন। তবে তিনি নিজেও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজে যেতে পারেন না। ফলে তাঁর সামান্য আয় দিয়ে নিজেদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।এদিকে, মানসিক ভারসাম্যহীন নাতনিকে দেখাশোনার দায়িত্ব এসে পড়েছে নানি আমেনা খাতুনের ওপর। সুরাইয়া সারাক্ষণ ছোটাছুটি করে। তাকে একা রেখে কোথাও যাওয়া সম্ভব হয় না। এমনকি জীবিকার তাগিদে কাজেও যেতে পারেন না আমেনা। নিরাপত্তার কথা ভেবে শিশুটির পায়ে দড়ি বেঁধে রাখতে হয় বলে জানান তিনি। দড়ি বাঁধা অবস্থাতেও সুরাইয়া সারাক্ষণ ছোটাছুটি করে।এ অবস্থায় নাতনিকে নিয়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটছে আমেনা খাতুনের। কখনো অন্যের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে, আবার কখনো অনাহারে-অর্ধাহারে তাঁদের দিন পার করতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে নাতনির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থাও করতে পারছেন না তিনি।আমেনা খাতুনের দাবি, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা করানো গেলে সুরাইয়া সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় নাতনির চিকিৎসা করানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।নাতনি সুরাইয়ার চিকিৎসা ও উন্নত জীবনযাপনের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিত্তবান ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন আমেনা খাতুন। সমাজের সহৃদয় মানুষ এগিয়ে এলে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।অসহায় আমেনা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের মোবাইল নম্বর: ০১৮২০৫১৮৬৬০।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম