প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সাইবার হামলার আশঙ্কায় বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
ডেস্ক নিউজ ||
বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও দেশের ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে সেবাটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার একটি বার্তা দেখা যাচ্ছে। এতে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালু করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিবিসি বাংলাকে জানান, বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকও একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছে।ওয়েবসাইটটি কবে নাগাদ চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ওয়েবসাইট চালু করতে চায় না কর্তৃপক্ষ।ব্যাংকিং লেনদেনে কি প্রভাব পড়েছে?বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, তাঁদের লেনদেন ও কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হয়নি।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, লেনদেন চালু রয়েছে, যদিও এর গতি কিছুটা কম।খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট মূলত অর্থনৈতিক তথ্য, নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন ও বিভিন্ন পরিসংখ্যান প্রকাশের কাজে ব্যবহৃত হয়। ব্যাংকের মূল আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয় পৃথক কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে। ফলে সাধারণ ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেই গ্রাহকদের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় না।কেন তৈরি হয়েছে সাইবার হামলার আশঙ্কা?ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি-তে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।এসব ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ, ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ কিংবা তথ্য চুরির চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা যাচাই করছে। কিছু প্রতিষ্ঠান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধও রেখেছে।মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের চিফ ডিজিটাল কর্মকর্তা খালিদ হোসেন জানান, সাইবার হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তাঁদের ব্যাংকের কয়েকটি ওয়েব পোর্টালের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আপডেট দেওয়ার পর কিছু পোর্টাল আবার চালু করা হয়েছে।তিনি বলেন, সাধারণ ওয়েবসাইট হ্যাক হলে সেখানে থাকা তথ্য পরিবর্তন বা বিকৃত করা সম্ভব হতে পারে। তবে ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়া মানেই গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে—বিষয়টি এমন নয়। কারণ মূল ব্যাংকিং কার্যক্রম পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়।নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশনাসাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জারি করা পরিপত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই, সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ রাখা এবং সাইবার হামলা মোকাবিলায় বিশেষায়িত দল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।পরে বৃহস্পতিবার সরকারি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্টও পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সতর্কতা জারি করে। সংস্থাটি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইটে দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট দেওয়া সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণসহ বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা ত্রুটি দূর না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে ওয়েবসাইট পুনরায় চালুর আগে নিরাপত্তা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আপডেট সম্পন্ন করা জরুরি।এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্য, নীতিমালা ও প্রজ্ঞাপন সংগ্রহে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়েবসাইট বন্ধ থাকার কারণে দেশের ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ হয়নি।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম