প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তিন লক্ষ্য
ডেস্ক নিউজ ||
জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তৈরি পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর টোকিও সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ২৭ অক্টোবর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ইপিএ কার্যকর হলে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে চুক্তিটি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩৭৯ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার সুযোগগত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ইপিএ সই হয়। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আলোচনা শেষে সম্পাদিত এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে।অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ ১৮ বছর পর্যন্ত শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব, শুল্ক ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।জাপানে পোশাক রপ্তানি ৩০০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যবাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য জাপান একটি সম্ভাবনাময় বাজার। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে প্রায় ১১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই রপ্তানি আয় ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।জাপানের বার্ষিক পোশাক আমদানির বাজার প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের। ফলে শুল্ক সুবিধা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। নিট ও ওভেন পোশাক, ডেনিম এবং উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্যের পাশাপাশি চামড়া ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, চিংড়ি এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি সফরে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। জাপানের বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গত মাসে বিজিএমইএর উত্তরার কার্যালয়ে একটি ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি এশীয় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোকে আকৃষ্ট করতে হংকংয়ে একটি রোডশো আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা করতে চায় টয়োটাবাংলাদেশে উৎপাদন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এর আগে গত ৬ অক্টোবর টয়োটা তসুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছে।এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে গাড়ি রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন বাংলাদেশের রানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। ১৪ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাবজাপানের কাছ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে সরকারের। ২০২৬ থেকে ২০৩১ মেয়াদে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি সহযোগিতা প্যাকেজ প্রস্তাবের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।প্রস্তাবিত প্যাকেজে সহজ শর্তের ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবহণ অবকাঠামো, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বন্দর, শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতকে সম্ভাব্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।মাতারবাড়ী বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা ও শিল্প অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হতে পারে। সফরে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, নতুন অর্থায়ন এবং জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।সফর ঘিরে কূটনৈতিক প্রস্তুতিপ্রধানমন্ত্রীর সফরকালে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী ঢাকায় থাকবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে, সফরের কূটনৈতিক কার্যক্রম ও আয়োজন সমন্বয়ের দায়িত্ব নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলাম টোকিও যাচ্ছেন।আগামী ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ইপিএ বাস্তবায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে। সরকারের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি ও উৎপাদন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম