প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের দেয়া ঘরে ঠাই হলো বিধবা আকলিমার
ফেরদৌস আলী , জেলা প্রতিনিধি ||
সামান্য বৃষ্টি হলেই জরাজীর্ণ ঘরের চালের ফুটু দিয়ে পানি পড়ত। হাঁড়ি-পাতিল, বালতি আর বিভিন্ন পাত্র দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করতে হতো। দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম ঠিকমতো হতোনা । টাকার অভাবে সেই ঘরটিও সংস্কার করতে পারছিলেন না গৃহহীন বিধবা নারী আকলিমা বেগম। অবশেষে তাঁর সেই কষ্টের অবসান হলো। অসহায় আকলিমার ঘর নির্মাণের দায়িত্ব নিয়ে ঘর নির্মান করে দিলেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।আকলিমা বেগম ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী। দিনমজুর স্বামী প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান। এরপর থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন তিনি।আকলিমার দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। তাঁর স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে আজমিনা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোনো রকমে মা-মেয়ের দুই সদস্যের সংসারের চালিয়ে আসছেন।অসুস্থতার কারণে আকলিমা নিজেও কোনো কাজ করতে পারেন না। সহায়-সম্বল বলতে কিছুই নেই। মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়স্থল জরাজীর্ণ ঘরটিও বসবাসের অনুপযোগী ছিলো। । একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পারতো । কিন্তু নতুন করে ঘর নির্মাণের সামর্থ্য ছিলো না তাঁর।অসহায় এই নারীর দুর্দশার কথা তুলে ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদ নজরে আসে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের। পরে তিনি আকলিমা বেগমের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ইতিমধ্যেই আকলিমা বেগমের ঘর নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসকের দেয়া ঘরে মাথাগুজার ঠাই হওয়ায় খুশিতে আত্মহারা আকলিমা বেগম। যেন দীর্ঘদিনের অন্ধকার জীবনে হঠাৎ আশার আলো দেখেছেন তিনি।আকলিমা বেগম বলেন, “আমার ঘরটি ভেঙে গেছে। বৃষ্টি হলে খুব কষ্ট হতো। নতুন ঘর পেয়ে — অনেক খুশি তিনি । জেলা প্রশাসকের প্রতি আকলিমা বেগম চিরকৃতজ্ঞ। তিনি বলেন আল্লাহ যেন তাঁকে দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা দান করেন।”অসহায় এক বিধবার মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসিত হয়েছে।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম