প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
দ্বিতীয় দফায় কেয়া গ্রুপের ৪ কারখানায় ৭৩৯ কর্মী ছাঁটাই, চরম উৎকণ্ঠায় শ্রমিকেরা
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর প্রতিনিধি ||
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় চরম আর্থিক ও ব্যাংকিং সংকটের মুখে থাকা তৈরি পোশাক খাতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী কেয়া গ্রুপের ৪টি কারখানায় একযোগে আরও ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে. সোমবার ১৯ অক্টোবর রাতে আকস্মিকভাবে কারখানার প্রধান ফটকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ ও নামের তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়. আকস্মিক এই ছাঁটাইয়ের খবরে কারখানার ফটকে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন বছরের পর বছর ধরে কাজ করা শত শত শ্রমিক।কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া নোটিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস সরবরাহ সংকট এবং কাঁচামালের অভাবের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো সরকারি বিধি মেনে ‘লে-অফ’ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় এই লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ৭৩৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে ছাঁটাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।কর্তৃপক্ষ নোটিশে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ছাঁটাই হওয়া সমস্ত কর্মকর্তা ও শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বা সরাসরি পরিশোধ করা হবে।ছাঁটাই হওয়া ৪টি প্রতিষ্ঠান কেয়া নিট কম্পোজিট ডিভিশন, কেয়া স্পিনিং ডিভিশন, কেয়া কটন ডিভিশন, কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী নারী শ্রমিক বলেন, "আমি প্রায় ১৯ বছর ধরে এই কেয়া নিট কম্পোজিটে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করছি। কারখানার ভালো-মন্দ সব সময় পার করেছি। লে-অফ থাকার পর আশা ছিল কারখানা খুলবে, কাজে ফিরব। কিন্তু সোমবার রাতে হঠাৎ গেটে নাম দেখে আমার আকাশ ভেঙে পড়েছে। এই বয়সে আমি এখন কোথায় চাকরি পাব? ঘরে অসুস্থ মা, বাচ্চাদের পড়াশোনা আর ঘরের ভাড়া কীভাবে দেব? ৩০ দিনের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা বললেও আমরা এখনো আগের বকেয়া ঠিকমতো পাইনি। আমাদের পাওনা যেন দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া হয়।"গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, "কেয়া গ্রুপের ৪টি প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় দফায় মোট ৭৩৯ জন শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নোটিশের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না ঘটে, সেজন্য কোনাবাড়ী ও জরুন শিল্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি যাতে শ্রমিকেরা তাদের শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যায্য পাওনা দ্রুততম সময়ে পেয়ে যান।"এদিকে এই গণছাঁটাইয়ের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় একাধিক শ্রমিক সংগঠন। শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের এই প্রবণতা সাধারণ শ্রমিকদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। তারা অবিলম্বে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বকেয়া বেতন এবং আইনসম্মত ক্ষতিপূরণ এককালীন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম