প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরে সরকারি জমি দখলে প্রভাবশালীরা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
||
গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়—বিশেষ করে কোনাবাড়ী, পূবাইল, কালিয়াকৈর ও কাশিমপুর, রাজেন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন স্থানে—সরকারি খাসজমি, জলাশয় এবং রেকর্ডীয় রাস্তা প্রভাবশালী ও স্থানীয় ভূমিখেকোদের দখলে চলে যাচ্ছে। এসব জমিতে পাকা বাড়ী, মার্কেট, দোকানপাট এবং বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বা রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যেমন—কোনাবাড়ীর পূর্বখোলা পাড়া বা পূবাইলের বিভিন্ন অংশ সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা ও খাসজমি দখল করে বহুতল ভবন, দোকানপাট তৈরি করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাধা দিলেও প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে দখল থামানো কঠিন হয়ে পড়ছে।সম্প্রতি কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্রও সামনে এসেছে, যেখানে সরকারি ভূমি ও বাণিজ্যিক জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা জালিয়াতির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।পূবাইলসহ গাজীপুরের নিরিবিলি ও প্রাকৃতিক পরিবেশঘেরা এলাকায় সরকারি ও জলাশয়/খাস জমি দখল করে গড়ে উঠেছে ব্যক্তি মালিকানাধীন বিলাসবহুল বাগানবাড়ী, রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা।সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে বাণিজ্যিক ও বসতি স্থাপন করায় সরকার খাসজমির প্রকৃত ইজারা মূল্য, ভ্যাট এবং ভূমি উন্নয়ন কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জালিয়াতির মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করায় রাজস্ব আয়ে বড় ধস নেমেছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে না। সম্প্রতি গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ দখলবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের কিছুদিন পর আবারও দখলদাররা সক্রিয় হয়ে ওঠে।স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি— গাজীপুরের প্রতিটি মৌজায় সরকারি খাসজমি ও রেকর্ডীয় রাস্তাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে দখলদারদের তালিকা তৈরি করা। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্থায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা। সরকারি জমি জালিয়াতির সাথে জড়িত ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম